পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) কি?

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুলাই ২০, ২০২৬

পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) কি?

স্বাস্থ্য ডেস্ক: (নাবিলা কবির: নিজস্ব প্রতিবেদক): পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) কি? অ্যাপোলো হসপিটালস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, আহমেদাবাদ

পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) হলো প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে দেখা দেওয়া একটি সাধারণ হরমোনজনিত ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট থলি বা ফলিকল জমা হওয়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাব।

PCOS-এর নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে প্রধান নিয়ামকগুলো হলো:

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে।

অতিরিক্ত ইনসুলিন ডিম্বাশয়কে পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন) তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:

অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন এবং এলএইচ (LH) হরমোনের উপস্থিতি স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটনে (Ovulation) বাধা দেয়।

জীনগত প্রভাব:

পরিবারে মা বা বোনের PCOS বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদী স্বল্পমাত্রার প্রদাহ (Low-grade Inflammation): শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ ডিম্বাশয়কে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন তৈরিতে প্ররোচিত করে।
লক্ষণ (Symptoms)

অনিয়মিত ঋতুস্রাব:

দীর্ঘ সময় পর পর পিরিয়ড হওয়া, বছরে ৮টির কম পিরিয়ড হওয়া বা মাঝে মাঝে অতিরিক্ত রক্তস্রাব।

হিরসুটিজম (Hirsutism):

মুখে, বুকে, পেটে বা পিঠে অতিরিক্ত ও ঘন কালো লোম গজানো।

ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক:

বিশেষ করে থুতনি, মুখমণ্ডল ও পিঠে জেদি ব্রণ হওয়া।

ওজন বৃদ্ধি:

হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বিশেষ করে পেটের চারপাশে মেদ জমা (যা সহজে কমতে চায় না)।

অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া: মাথার তালুর চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা চুল পড়া।

বন্ধ্যাত্ব:

নিয়মিত ডিম্বাণু ফুটতে না পারায় গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি হওয়া।
ইউএসজি ফাইন্ডিং (USG Findings)

পেলভিক বা ট্র্যান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে (USG) সাধারণত যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:

স্ট্রিং অব পার্লস (String of Pearls): ডিম্বাশয়ের পরিধিতে ২–৯ মিলিমিটার আকারের বহুসংখ্যক (সাধারণত ১২টি বা তার বেশি) ছোট ছোট ফলিকল সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে, যা দেখতে মুক্তার মালার মতো লাগে।

PCOS-এর নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে প্রধান নিয়ামকগুলো হলো
Female reproductive system diseases. Uterus cancer and endometrial malignant tumor as a uterine medical concept. 3d illustration

ওভারিয়ান ভলিউম বৃদ্ধি: ডিম্বাশয়ের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায় (সাধারণত ১০ মিলিলিটারের বেশি)।

কেন্দ্রীয় স্ট্রোমার ঘনত্ব:

ডিম্বাশয়ের মধ্যভাগের টিস্যু (Stroma) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন ও উজ্জ্বল দেখায়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Investigations)

১. হরমোন প্রোফাইল:

টেস্টোস্টেরন (Testosterone), এলএইচ (LH), এফএসএইচ (FSH), প্রোল্যাকটিন (Prolactin) ও থাইরয়েড (TSH) লেভেল নির্ণয়।

২. রক্তের শর্করা পরীক্ষা:

ফাস্টিং গ্লুকোজ, ওজিটিটি (OGTT) এবং ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা।

৩. লিপিড প্রোফাইল:

রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা যাচাই।

৪. পেলভিক আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG):

ডিম্বাশয়ের গঠন ও আকৃতি পর্যালোচনার জন্য।
ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা (Management)

PCOS পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক জীবনযাত্রা ও চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়:

জীবনযাত্রার পরিবর্তন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ step):

ওজন নিয়ন্ত্রণ:

শরীরের মোট ওজনের ৫–১০% কমাতে পারলে পিরিয়ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত হতে শুরু করে।

সুষম খাদ্যভ্যাস:

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

নিয়মিত ব্যায়াম:

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা।

মেডিকেল চিকিৎসা:

পিরিয়ড নিয়মিত করতে:

ডাক্তার নির্ধারিত কম্বাইন্ড ওরাল কনট্রাসেপ্টিভ পিল (OCP) বা প্রজেস্টেরন থেরাপি।

ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে:

মেটফর্মিন (Metformin) জাতীয় ওষুধ।

গর্ভধারণের জন্য:

ডিম্বস্ফোটন উদ্দীপক ওষুধ (যেমন—লেট্রোজোল বা ক্লোমিফেন)।

অতিরিক্ত লোম ও ব্রণের জন্য: অ্যান্টি-এন্ড্রোজেন ওষুধ।

পরামর্শ: সঠিক সময়ে এটি শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসায় থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য

আরো পড়ুন..... 

কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধ

ফ্যাটি লিভার: লক্ষণ ও চিকিৎসা