দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

নাবিলা কবির: দেশে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কর্মসূচিটি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

দেশজুড়ে আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির নাম ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’। মূলত চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে যারা টিকা নিতে পারেনি বা কোনো কারণে বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনাই এবারের বিশেষ কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির পরও বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। এর মধ্যে গত কয়েক মাসে নতুন করে ৬ মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুরাও রয়েছে। এসব শিশুকে এবার বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার ওপর নির্ভর করা হবে না। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করবেন এবং বাদ পড়া শিশুদের তালিকাভুক্ত করে টিকার ব্যবস্থা করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ জন শিশু টিকা পেয়েছে। এরপরও যেসব শিশু বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, বিশেষ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ৬ মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। তবে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বিশেষ টিকা দেওয়ার আওতায় রাখা হচ্ছে না।

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৫ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ২০১টি সন্দেহভাজন আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা এবং হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা। বিশেষ ক্যাম্পেইনটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

আরো পড়ুন...

তুরস্ককে ১–০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স