মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে লুব্রিকেন্টস কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে র্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি এবং র্যানকন লুব্রিকেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জামান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ একর জমিতে শিল্প ইউনিট স্থাপন করবে র্যানকন। প্রকল্পটিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। কারখানাটি চালু হলে ২৫০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কারখানায় বছরে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার লুব্রিকেন্টস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। এখানে অটোমোটিভ ও শিল্প খাতের লুব্রিকেন্টসের পাশাপাশি গিয়ার অয়েল, কম্প্রেসর অয়েল, ট্রান্সফরমার অয়েল, হিট ট্রান্সফার অয়েল ও গ্রিজ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এতদিন র্যানকন লুব্রিকেন্টস বিদেশ থেকে প্রস্তুত ইঞ্জিন অয়েল আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করত। নতুন কারখানা চালু হলে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশেই লুব্রিকেন্টস মিশ্রণ ও প্রস্তুত করবে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
চুক্তির মেয়াদ জমি হস্তান্তরের তারিখ থেকে ৫০ বছর। নির্ধারিত শর্তে তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের ৯০ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। জমি বুঝে পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু এবং ৩৬ মাসের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রযোজ্য সরকারি শুল্ক, ভ্যাট ও কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা করা হবে। অন্যদিকে র্যানকনকে পরিবেশ, শ্রম ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার একীভূতকরণের পর এটিই তাদের প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি। র্যানকনের এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি নতুন সংস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।














