মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রায় ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এ প্রকল্প নিয়ে বন বিভাগ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে আপত্তি দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত সড়কটি শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটির প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ মিটার বা ১৮ ফুট। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর পাহাড় মৌজা-১২-এর প্রায় ১৮ হাজার ২৮৬ একর এলাকা ১৯৫৭ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এলাকাটি বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। বন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সংরক্ষিত বনের ভেতর স্থায়ী সড়ক নির্মাণ হলে দুর্গম বনাঞ্চল মানুষের সহজ প্রবেশের আওতায় আসবে। এতে ভবিষ্যতে বনভূমি দখল, গাছ কাটাসহ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক নির্মাণের জন্য বিদ্যমান সরু পথকে ১৮ ফুট প্রশস্ত করতে হলে দুই পাশে পাহাড় ও বনভূমির অংশ কাটতে হবে। সংরক্ষিত বনের ভেতর এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের আইনগত সুযোগ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে এলজিইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়কটি সরকারি গেজেটভুক্ত এবং স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের কিছু অংশে কংক্রিটের কাজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এ নিয়ে আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সড়কের একটি অংশের নির্মাণকাজ বন্ধের আবেদন করলে হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। পরে আপিল বিভাগ সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন এবং সড়কের প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটারের বেশি না করার শর্তে নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও সংরক্ষিত বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে তা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, সড়ক নির্মাণের পর বনের ভেতরে অবৈধ বসতি ও দখল আরও বাড়তে পারে।
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনকে ঘিরে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই বিরোধের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় যোগাযোগের প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প কোনো পথ বা পরিবেশগতভাবে কম ক্ষতিকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না।














