মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণার বিল এলাকায় রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘কাটা পাহাড়’ নামে পরিচিত একটি পাহাড় থেকে গত দুই থেকে তিন দিন ধরে মাটি কেটে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় পাহাড় কাটার তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এর আগে লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বেলাল নিজেকে ওই পাহাড়ের মালিক দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, জায়গাটি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে সংস্কারের উদ্দেশ্যে তিনি কিছু মাটি কেটেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাতের বেলায় কে বা কারা পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
পাহাড় কাটার সঙ্গে মামুন নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাল তাকে চেনেন না বলে দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে মামুনের বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি, বেলাল নামে এক ব্যক্তি গত পরশু রাতে তার কাছ থেকে একটি গাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি নিজে পাহাড়ের মাটি কাটা বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন বলেও জানান।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে পাহাড় কাটা বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ও টিলা কাটার অভিযোগে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আগস্টেও উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে কলাউজানের হরিণার বিল এলাকায় সর্বশেষ পাহাড় কাটার অভিযোগের ক্ষেত্রে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কী পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে, তা প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।














