পুরুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: দিয়া মির্জা

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুলাই ২৭, ২০২৬

পুরুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: দিয়া মির্জা

বিনোদন: পুরুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: দিয়া মির্জা।

পরিবেশকর্মী ও বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেট দুনিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

দিয়া মির্জার পুরুষ ও পিতৃতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অভিনেত্রী ও পরিবেশকর্মী দিয়া মির্জা সোহা আলি খানের পডকাস্টে পরিবেশকর্মী হিসাবে দিয়া অংশ নেন।

এমন সময় পরিবেশ সাংবাদিক আরাতি কুমার রাওয়ের সঙ্গে আলোচনায় (Wionews) দিয়া মন্তব্য করেন, পুরুষরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

এবং বিশ্বজুড়ে যে বিপর্যয় ঘটছে তার জন্য তারাই সম্পূর্ণভাবে দায়ী।

তিনি বলেন, পিতৃতন্ত্রই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ।

তাঁর মূল বক্তব্য ছিল ইকোফেমিনিজম বা পরিবেশ-নারীবাদ ঘেঁষা যা নারী ও প্রকৃতির উপর শোষণের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে দেখে (NewsGram)।

পরে সমালোচনার জবাবে দিয়া স্পষ্ট করেন যে তাঁর মন্তব্য ছিল জলবায়ু সংকট চালিত পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত ও আধিপত্যবাদী ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে।

নারী ও প্রকৃতিকে একইভাবে পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতার সমালোচনা করতেই তিনি এই কথা বলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল জনগোষ্ঠীর নারী ও কিশোরীরাই সাধারণত পানির অভাব, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা,

উচ্ছেদ ও জীবিকা হারানোর মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার আগে ভোগ করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য নিয়ে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনেকে তাঁকে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে পরিবেশ নিয়ে কথা বলার জন্য ভণ্ডামির অভিযোগ তুলেছেন,

আবার কেউ কেউ তাঁর পক্ষ নিয়ে বলেছেন পিতৃতন্ত্র, উপনবেশবাদ ও পুঁজিবাদই জলবায়ু সংকটের মূল কারণ।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিবিসি-র "১০০ নারী" তালিকায় থাকা দিয়া মির্জা এর আগেও বলেছিলেন যে

বহুজাতিক সংস্থার প্রধানদের একগুঁয়েমিই জলবায়ু সমস্যার মূল কারণ।

এটি একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে করা মন্তব্য; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য হলো

এটি মূলত মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল, যা লিঙ্গ নির্বিশেষে নীতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী

পুরুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: দিয়া মির্জা

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিয়া মির্জা আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নারী ও কিশোরীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

সুপেয় পানির অভাব, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং জীবিকা হারানোর মতো সংকটগুলো নারীদের ওপরই প্রথম আঘাত হানে।

পরিবেশ রক্ষায় দিয়া মির্জার ভূমিকা

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক শুভেচ্ছাদূত (UN Environment Goodwill Ambassador):

দিয়া মির্জা ভারতে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সুরক্ষা, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।

প্লাস্টিক দূষণবিরোধী প্রচারণা (Beat Plastic Pollution):

একমবারের মতো ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের (Single-use plastic) ব্যবহার বন্ধে তিনি ক্রমাগত সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান।

বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ (Wildlife & Sanctuary Protection):

তিনি ‘ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’ (WTI)-এর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য সংরক্ষণে কাজ করেন। বিশেষ করে হাতি ও অন্যান্য বিপন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় তাঁর প্রচারমূলক কাজ প্রশংসিত।

ইকোফেমিনিজম ও সামাজিক জলবায়ু ইস্যু:

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি কথা বলেন। পরিবেশ বিনাশের সাথে পুরুষনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কাঠামোর সংযোগ তুলে ধরে ‘ইকোফেমিনিজম’ ধারণাকে তিনি প্রচার করেন।

সবুজ জীবনযাত্রার প্রবর্তন (Sustainable Living Advocate):

ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা অনুসরণের জন্য তিনি পরিচিত। তিনি পরিবেশবান্ধব সামাজিক সচেতনতামূলক প্রজেক্ট এবং সাস্টেইনেবল ব্র্যান্ডগুলোর সাথে যুক্ত থেকে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পুরুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: দিয়া মির্জা

দিয়া মির্জার এই বক্তব্য সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

একাংশ তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, নিজে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপানো ভণ্ডামি।

অন্যদিকে, পরিবেশবাদীদের একটি দল তাঁর পক্ষ নিয়ে জানান—পিতৃতন্ত্র, উপনিবেশবাদ এবং অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদই বিশ্বব্যাপী এই জলবায়ু সংকটের প্রধান অনুঘটক।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য

আরো পড়ুন....সাই পল্লবীর বাড়ির অন্দরমহল: অন্দরসজ্জা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য