মেট্রোরেলে ৮ নতুন স্টেশন যুক্ত হচ্ছে

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ২৮, ২০২৬

মেট্রোরেলে ৮ নতুন স্টেশন যুক্ত হচ্ছে

অতিন বিশ্বাস:

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় নতুন করে আটটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এসব প্যাকেজের আওতায় মোট ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি ডিপো অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজে নির্মাণকাজ পরিচালিত হবে। এর মধ্যে সিপি-০২ প্যাকেজের মাধ্যমে ডিপো এলাকায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার।

অন্যদিকে, সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায় পাতাল রেলপথ থেকে উড়াল অংশে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ অংশে জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল এই তিনটি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি করবে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটেও দুটি প্যাকেজের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজ করবে সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার।

এ ছাড়া সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ অংশে হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা এই পাঁচটি স্টেশন থাকবে। এ প্যাকেজের নির্মাণকাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো এবং যাতায়াতে সময় সাশ্রয় করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব কমানো, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা সহজ হবে। নতুন রেলপথ ও স্টেশনগুলো চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের গণপরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমানো এবং যাতায়াতব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করার ক্ষেত্রেও প্রকল্প দুটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সুফল বাস্তবে পেতে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং যাত্রীসেবার কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।