মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মধুনাঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীবাহী বাস থামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আমিনুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে চুয়েটগামী বাসে উঠেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আমিনুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, ”আমি বহদ্দারহাট থেকে বাসে উঠি। বাস কিছু দূর গেলে কয়েকজন বাসের গতি রোধ করে আমাকে টেনে বাস থেকে বের করে মারধর শুরু করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিলো।”
পথে হাটহাজারীর মধুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে তিনি বাস থেকে নামেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মোবাইল ফোন বের করে কাউকে ফোন করার চেষ্টা করলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁর জামাকাপড় ধরে টানাটানি করা হয়, চুল ধরে টানা হয় এবং মারধর করা হয়। তাঁকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এগিয়ে এসে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। হামলাকারীরা তাঁকে ছাত্রলীগ ও শিবিরের কর্মী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা কাসেম কাদের বলেন, ”আমি বরাবরের মতো নিজের দোকানে বসে ছিলাম, বাস যাচ্ছিল। কয়েকজন ছেলে হাতে লাঠিসাটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস থেকে টানাটানি শুরু করে। আমরা এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেছে এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে, বাস ভাঙচুরের অভিযোগও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সরাসরি হামলার জন্য দায়ী করা সমীচীন নয়।
ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
চুয়েটে বর্তমানে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ক্যাম্পাসের বাইরেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে এমন ঘটনা ঘটলে তাঁদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে হামলার প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।














