চিনি থেকে তৈরি হবে প্লাস্টিক

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২৪, ২০২৬

চিনি থেকে তৈরি হবে প্লাস্টিক

ডেস্ক রিপোর্ট: বিজ্ঞানের এক অভিনব আবিস্কার। এখন চিনি থেকে তৈরি হবে প্লাস্টিক।

প্রচলিত প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ থেকে যে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, তার একটি সম্ভাব্য বিকল্প হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান।

ম্যাসাচুসেটসের ওবার্নে অবস্থিত সিজে বায়োম্যাটেরিয়ালস নামের কোম্পানিটি চিনি গাঁজন (ফার্মেন্টেশন) প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে উদ্ভিদভিত্তিক পলিমার তৈরি করছে, যা পরবর্তীতে অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি ল্যাবে, নুড়ি পাথরের আকারের পেলেটগুলোকে এমন কাঁটাচামচ

এবং ফিল্মে রূপান্তরিত করা হয়, যা পরিবেশে কোনো স্থায়ী মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ায় না।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি প্রচলিত প্লাস্টিকের এই বিকল্পকে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার অন্যতম সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানির গবেষণাগারে প্রযুক্তিবিদরা পেলেট গলিয়ে খাদ্য মোড়কীকরণের জন্য নমনীয় ফিল্ম তৈরি করেছেন যা মজবুত হলেও ক্লিং র‍্যাপের মতো প্রসারণক্ষম নয়।

এই বায়োপ্লাস্টিক তৈরির পরীক্ষায় বিভিন্ন ফলাফল এসেছে।

কিছু নমুনা এতটাই পাতলা যে বাড়িতেই কম্পোস্ট করা সম্ভব, যদিও তা মাংস কাটার জন্য যথেষ্ট শক্ত নয়,

আবার কিছু ব্যাচ প্রচলিত প্লাস্টিক কাঁটাচামচের মতোই শক্ত হয়েছে।

তবে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পথে কিছু বাধাও রয়েছে।

বায়োপ্লাস্টিক সাধারণত প্রচলিত প্লাস্টিকের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল, আর বড় শহরে পৌর কম্পোস্টিং কর্মসূচি থাকলেও অন্যত্র তা সীমিত।

এছাড়া, বায়োপ্লাস্টিক ও প্রচলিত প্লাস্টিক দেখতে ও ধরনে প্রায় একই রকম হওয়ায় দুটি মিশে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়, যা কম্পোস্টিং প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের (WWF) মতে, জীববস্তুভিত্তিক (বায়োবেসড) প্লাস্টিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবছর বিশ্বে উৎপাদিত সাড়ে চার কোটি টনের বেশি প্লাস্টিকের মধ্যে জীববস্তুভিত্তিক প্লাস্টিকের অংশ মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ,

তবে ইউরোপীয় বায়োপ্লাস্টিকস নামের শিল্প সংগঠনের হিসাবে, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও উন্নত প্রয়োগের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এই উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চিনি থেকে তৈরি এই প্লাস্টিক প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভবিষ্যতে খাদ্য মোড়কীকরণ ও একবার

ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে টেকসই বিকল্প হয়ে উঠতে পারে, যা কমাতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের চাপ।

আরো পড়ুন…..

 প্লাস্টিক মাটিতে ২ বছরে সম্পূর্ণরূপে পচে যায়: গবেষণা

মেটার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে জার্মানি