সিলেট প্রতিনিধি: চা বাগান থেকে হার্ভার্ড যাওয়ার স্বপ্ন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব পৌঁছে গেছেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তিনি বর্তমানে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের "মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি" (MMSc GHD) প্রোগ্রামে স্নাতকোত্তর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
শান্তা যাদব লংলা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত এক শ্রমিক দম্পতির সন্তান।
তাঁর বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব এবং মা রীনা যাদব, দুজনই ছিলেন এই বাগানের শ্রমিক।
চা বাগানের সীমাবদ্ধ জীবনযাত্রা আর নারীশিক্ষার নানা বাধা পেরিয়ে তিনি এই মাইলফলক অর্জন করেছেন।
শান্তা প্রায় দুই কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে পড়তে গেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্নাতক শেষ করার
পর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন তবে তাঁর ইচ্ছা ছিল হার্ভার্ডেই পড়ার।
আবু সোবহান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি নাসরিন সোবহান শান্তার প্রসঙ্গে বলেন, কোটার সুবিধায় নয়,
বরং ইংরেজিতে দক্ষতা ও লেখনীর গুণেই শান্তা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন এবং হার্ভার্ডে সুযোগ পেয়েছেন।
একটি চা বাগানের সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে শুরু হওয়া পথ আজ তাঁকে নিয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানের দরজায়।
শান্তা যাদবের এই গল্প প্রমাণ করে পরিস্থিতি হয়তো শুরুটা নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু স্বপ্ন, পরিশ্রম আর সাহসই ঠিক করে দেয় মানুষ শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাবে।
লংলা চা বাগানের আরও অনেক শিশুর কাছে শান্তা যাদবের এই অর্জন হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।













