ডেস্ক রিপোর্ট: জিভে জল আনা ৩টি ভিন্ন স্বাদের বাঙালি ভর্তা রেসিপি।
বাঙালির খাবার টেবিলে ‘ভর্তা’ শব্দটি শুনলেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে গরম ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত আর তার সাথে মুখের রুচি বাড়িয়ে দেওয়ার মতো দারুণ এক পদ। রেসিপি
বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পে ভর্তার ইতিহাস বেশ পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী।
যেকোনো মাছ, মাংস বা সবজির চেয়েও অনেক সময় সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি ঝাল-ঝাল ভর্তা দিয়ে পুরো প্লেট ভাত নিমিষেই শেষ করে ফেলা যায়।
আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি তিনটি ভিন্ন ও জনপ্রিয় ভর্তার সহজ রেসিপি—শুটকি ভর্তা, আলু-ধনেপাতা ভর্তা এবং টমেটো ভর্তা।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক এই মজাদার পদগুলো তৈরির উপায়
১. স্পেশাল রূপচাঁদা বা লইট্যা শুটকি ভর্তা
শুটকি প্রেমীদের কাছে যেকোনো শুটকি ভর্তার নাম শুনলেই লোভ সামলানো দায়। ঝাল ও রসুনের সুবাসে ভরপুর এই ভর্তা গরম ভাতের সাথে অমৃতের মতো কাজ করে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
শুটকি (লইট্যা বা রূপচাঁদা টুকরো): ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি: ১ কাপ
রসুন কুচি: ৪-৫ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ: ৫-৭টি (ঝাল অনুযায়ী কম-বেশি করতে পারেন)
হলুদ গুঁড়ো: সামান্য
সরিষার তেল: ২-৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদমতো
প্রস্তুত প্রণালী:

১. প্রথমে শুটকিগুলোকে কুসুম গরম পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন যাতে এর গায়ে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত লবণাক্ত ভাব দূর হয়ে যায়। এরপর ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
২. কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে ধুয়ে রাখা শুটকিগুলো হালকা বাদামি রঙ করে ভেজে তুলে রাখুন।
৩. একই কড়াইতে আরও একটু সরিষার তেল দিয়ে তাতে শুকনো মরিচ, রসুন কুচি এবং পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। পেঁয়াজ ও রসুন সোনালী রঙ হয়ে গেলে নামিয়ে নিন।
৪. এবার পাটায় শুটকি, ভাজা পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ এবং লবণ একসাথে বেটে নিন। যদি পাটায় বাঁটার সুযোগ না থাকে, তবে ব্লেন্ডারে খুব বেশি মিহি না করে একটু ভাঙা ভাঙা করে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন।
৫. সবশেষে উপর থেকে কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার শুটকি ভর্তা।
ধনেপাতা ও আলু ভর্তা
আরামদায়ক এবং ঝটপট তৈরি করার মতো একটি ক্লাসিক ভর্তা হলো আলু ও ধনেপাতার ভর্তা।
শীতকালে বা যেকোনো সাধারণ দিনে এটি পাতে থাকলে আর কিছু না হলেও চলে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
আলু: ৩টি (মাঝারি আকারের)
তাজা ধনেপাতা কুচি: ১ কাপ (ভরপুর সুবাসের জন্য)
পেঁয়াজ কুচি: আধা কাপ
কাঁচা মরিচ: ৪-৫টি (স্বাদমতো)
সরিষার তেল: ২ টেবিল চামচ
লবণ: পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রণালী:
১. আলুগুলো ভালো করে ধুয়ে খোসাসহ বা খোসা ছাড়িয়ে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ হয়ে গেলে একটি বাটিতে নামিয়ে ভালো করে চটকে (ম্যাস করে) নিন।
২. কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ হালকা ভেজে নিন। কাঁচা মরিচগুলো একটু টেলে নিলে এর গন্ধ দারুণ আসে।
৩. এবার চটকে রাখা আলুর মধ্যে ভাজা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পরিমাণমতো লবণ এবং কুচিয়ে রাখা তাজা ধনেপাতা দিন।
৪. সমস্ত উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মেখে নিন। হাতের ছোঁয়াতেই ধনেপাতার সুবাস আলুর সাথে মিশে যাবে।
৫. সবশেষে খাঁটি সরিষার তেল ছড়িয়ে দিয়ে আরও একবার ভালোভাবে মেখে নিলেই তৈরি সুস্বাদু আলু-ধনেপাতা ভর্তা।
পোড়ানো টমেটো ভর্তা

টমেটোর টক-ঝাল এবং পোড়া গন্ধের এক অপূর্ব কম্বিনেশন হলো এই টমেটো ভর্তা।
গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক শহুরে ডাইনিং টেবিল সবখানেই এর দারুণ কদর রয়েছে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
পাকা টমেটো: ৩টি (বড় আকারের)
পেঁয়াজ কুচি: আধা কাপ
শুকনা বা কাঁচা মরিচ পোড়া: ৪-৫টি
ধনেপাতা কুচি: ২ টেবিল চামচ
সরিষার তেল: ২ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদমতো
প্রস্তুত প্রণালী:
১. টমেটোগুলো ভালো করে ধুয়ে মুছে নিন। এরপর চুলার আগুনে বা প্যানে হালকা তেল মেখে টমেটোগুলো পুড়িয়ে নিন।
টমেটোর খোসা কালো হয়ে নরম হয়ে গেলে বুঝতে হবে এটি ভালোভাবে সেদ্ধ ও পোড়ানো হয়েছে।
২. টমেটো ঠান্ডা হলে এর ওপরের কালো খোসা সাবধানে ছাড়িয়ে নিন।
৩. একটি পাত্রে পোড়ানো টমেটো চটকে নিন। এর সাথে যোগ করুন পোড়ানো মরিচ, পেঁয়াজ কুচি, ধনেপাতা কুচি এবং লবণ।
৪. সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে হাত দিয়ে চটকে মেখে নিন।
৫. পরিবেশনের আগে অবশ্যই এতে খাঁটি সরিষার তেল মিশিয়ে নিন। এটি টমেটোর স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী ভর্তাগুলো তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনই এর স্বাদ অতুলনীয়।
আজই আপনার পছন্দের যেকোনো একটি ভর্তা তৈরি করে পরিবারের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিন!
-প্রেসপয়েন্টবিডি/জীবনযাপন













