স্কুলে হিজাব নিষেধ আজারবাইজানে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১৩, ২০২৬

স্কুলে হিজাব নিষেধ আজারবাইজানে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সেতু মাহমুদ: আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। নতুন নিয়মের বিরোধিতা করে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনের খবরও পাওয়া গেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলের পোশাকবিধিতে সংশোধনী আনে। নতুন নিয়মে এমন পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় অথবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। তবে বিধিতে সরাসরি ‘হিজাব নিষিদ্ধ’ করার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পোশাকের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের জন্য পোশাকসংক্রান্ত আলাদা নিয়ম অনুমোদন করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানী বাকুর কয়েকটি স্কুলের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রতিবাদ জানান। দেশটির মাসাল্লি জেলাতেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের খবর পাওয়া গেছে। হিজাব পরা সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নেয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বাকুর বালাখানি এলাকার ৬৯ নম্বর স্কুলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘হিজাব শিক্ষার পথে বাধা নয়।’ বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

এদিকে আজারবাইজানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পোশাকবিধি কার্যকর করা নিয়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকটি ঘটনায় স্কুলের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সরকারপক্ষের যুক্তি, অভিন্ন পোশাকবিধি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে এবং ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, বিধি প্রয়োগের কারণে হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিবাদকারীরা।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ আজারবাইজান একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলিম হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করা হয়। এর আগেও দেশটিতে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছিল।

নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন সামনে এসেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে বিধির প্রয়োগ, কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।

আরো পড়ুন...

অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং, চট্টগ্রামে বাড়তি যানজটের কারণ