ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের মীমাংসা তহবিল:হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ সৃষ্টি

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :মে ৩০, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইআরএস (IRS) মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে গঠিত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ

মীমাংসা তহবিল (Settlement Fund) নিয়ে হোয়াইট হাউসেসহ মার্কিন রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বাইডেন শাসনামলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে সরকারি হেনস্তার শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন

এই "অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড" (Anti-Weaponization Fund) বা "সরকারি অস্ত্রায়ন বিরোধী তহবিল" গঠন করেছিলেন।

তবে সমালোচকরা এটিকে ট্রাম্পের মিত্র ও সমর্থকদের সুবিধা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার বা "স্লাশ ফান্ড" (Slush Fund) হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

তহবিলটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এই তহবিল থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন মিত্রকে অর্থ প্রদানের কথা ছিল।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তহবিলটি বাতিল করতে রাজি হননি, তবে মিত্রদের বলেছেন যে তিনি বোঝেন সিনেট রিপাবলিকানদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে।

শুক্রবার, একজন ফেডারেল বিচারক পূর্ব ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আইনি চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করার জন্য তহবিলটি পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কর সংক্রান্ত নথিপত্র (Tax Returns) ফাঁসের ঘটনায় তিনি ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (IRS)-এর বিরুদ্ধে একটি ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন।

সেই মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) এই ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের "জাজমেন্ট ফান্ড" (Judgment Fund) থেকে করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সমালোচক এবং ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এই তহবিলের টাকা মূলত ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্ত ব্যক্তি

এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের পকেটে যাবে।

তহবিলটি পরিচালনার জন্য একটি ৫ সদস্যের কমিশন গঠন করা হবে, যা সরাসরি ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এই কমিশনের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনগুলো গোপন রাখার বিধান থাকায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন ফেডারেল আদালত এই তহবিলের কার্যক্রম ও অর্থ বিতরণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যেও এই বিশাল অংকের সরকারি অর্থের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।