আন্তর্জাতিক ডেক্স: যুদ্ধবিরোতির আড়ালে ইরানের ওপর আবারো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
তারা দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের নৌঘাঁটি ‘বন্দর আব্বাস’ এর নিকটবর্তী এলাকায় সোমবার আনুমানিক রাতে এই হামলা চালানো হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুতগতির স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা ইরাননের নৌ বাহিনীর হামলা থেকে তাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন,”ইরানি বাহিনীর হামলা চালানোর হুমকির আশঙ্কা থেকে আমাদের সৈন্যদের রক্ষা করার জন্য মার্কিন বাহিনী আজ দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে।”
এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, হরমুজ প্রণালীতে দু’টি জাহাজকে মাইন স্থাপন করতে দেখা যায়।
তারপরই হামলার আশঙ্কা থেকে বাঁচতে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আরও দুটি সূত্র সেদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই অভিযান কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত নয়।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Truth Social) এ এক পোস্টে মার্কিন ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নিয়ে আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
তিনি আরো বলে, সংঘটিত হামলাটি মার্কিন বাহিনী আত্মরক্ষার স্বার্থে করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল।
কাতারের দোহায় যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই আকস্মিক হামলা চালানো হলো।
এই হামলার ফলে দুই দেশের চলমান শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।













