জুলাইয়ের মামলায় হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ৩১, ২০২৬

দুই বছর পর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা,রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু নতুন আলোচনা। দীর্ঘ দুই বছর পর আজ (৫ আগস্ট) ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ভারতের নয়াদিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia (FCC South Asia) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, কূটনীতিক, গবেষক এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গতকাল (৪আগস্ট) হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন "জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হবেন, কথা বলবেন"। প্রেস কনফারেন্স যথাসময়েই শুরু হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রেস কনফারেন্স লাইভ করবে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমি ডিসেম্বরে আমার দেশে ফিরব।" তবে এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের সম্ভাব্য এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়; বরং গত দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করে করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। তদন্তে বাদী নূর হোসেনের আহত হওয়ার দাবির সত্যতা মেলেনি। মামলায় দাখিল করা চিকিৎসাপত্রও জাল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এলে নথি পর্যালোচনা করে বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন বিচারক। আগামী ১ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নূর হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় হামলার শিকার হন তিনি। তাঁর দাবি, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নূর হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি।

চিকিৎসার নথিতে অসংগতি

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সঙ্গে জমা দেওয়া বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও চিকিৎসার নথি যাচাই করে তদন্ত কর্মকর্তা ওই তারিখে নূর হোসেন নামে কারও চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাননি।

তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দিলেও মামলায় জমা দেওয়া কাগজটি কম্পিউটারে টাইপ করা। ব্যবস্থাপত্রে থাকা ক্যাশ মেমো নম্বরটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক রোগীর এবং পেশেন্ট আইডি নম্বরটি জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের প্রকাশিত গেজেটেও নূর হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, বাদী আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলাটি করেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা তালিকায়

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকারসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা দায়েরের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আটজনকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। তবে এই মামলার এজাহারের ভিত্তিতে নতুন করে কাউকে সরাসরি আটক করা হয়নি।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা উক্যমং রাখাইন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।