হাসিনার পতনের দুই দিন আগে ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের কি আলোচনা হয়েছিল

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ৩০, ২০২৬

হাসিনার পতনের দুই দিন আগে ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের কি আলোচনা হয়েছিল

জয়শ্রী রানী:

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই দিন আগে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের যোগাযোগ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ যোগাযোগ স্থাপনে তৎকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেসের (এএফপি) সাংবাদিক কাদারউদ্দিন শিশির মধ্যস্থতা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এসব তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিতব্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ছাত্রনেতারা মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছিলেন। সে উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন শিশির।

শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় শিশির এএফপির ঢাকা কার্যালয়ের ফ্যাক্ট-চেক দলের সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। ছাত্রনেতাদের পক্ষে তিনিই প্রথম ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা সহজ করে দেন বলে দাবি করেন আলম।

কী বলছেন শফিকুল আলম

শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে শিশিরকে একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার প্রাথমিক পর্যায় পরিচালিত হয়েছিল। সে সময় অল্প কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তখনও ক্ষমতায় থাকায় এ ধরনের যোগাযোগ প্রকাশ হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। তবে আলোচনায় ঠিক কী কী বিষয় উঠে এসেছিল, কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই যোগাযোগ কতটা প্রভাব ফেলেছিল এসব বিষয়ে তাঁর পোস্টে বিস্তারিত তথ্য নেই।

পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এর পরদিন, ৬ আগস্ট, আন্দোলনের ছাত্রনেতারা মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৮ আগস্ট দেশে ফিরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।

শফিকুল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগের উদ্যোগটি প্রকাশ্যে তাঁর নাম প্রস্তাব করার আগেই শুরু হয়েছিল। তবে এই বর্ণনা থেকে এককভাবে বলা যায় না যে সরকারের পতনের পুরো প্রক্রিয়া আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল কিংবা ওই যোগাযোগই রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিপথ নির্ধারণ করেছিল।

দাবির স্বাধীন যাচাই কতটা হয়েছে? শফিকুল আলমের বক্তব্যের ভিত্তিতে একাধিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। তবে তাঁর বর্ণনার বাইরে আলোচনার পূর্ণ বিবরণ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং যোগাযোগের প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।