রাবিতে হলে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে গলা চেপে ধরা ও বটি নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগ

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ২৪, ২০২৬

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির জেরে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরা এবং দেশীয় অস্ত্র বটি নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী আরাফাত অ্যাগ্রোনমি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌহিদুল এবং ১১৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী আরাফাত। আগের দিন রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। শুক্রবার সকালে আরাফাতের কক্ষে গিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরেন তৌহিদুল। পরে কক্ষের বাইরে আবারও তর্কাতর্কি হলে পাশে থাকা একটি বটি নিয়ে আরাফাতের দিকে তেড়ে যান তৌহিদুল। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের ছাড়িয়ে দেন।

ভুক্তভোগী আরাফাত বলেন, আগের রাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে তিনি দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তৌহিদুল এসে অতর্কিতভাবে তাঁর গলা চেপে ধরেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট ধস্তাধস্তির পর হলের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের আলাদা করেন।

আরাফাত আরও বলেন, ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তৌহিদুল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ধাওয়া করেন এবং কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি সরে যাওয়ায় আঘাত পাননি।

আক্রমণের কারণ সম্পর্কে আরাফাত বলেন, তাঁদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপ রয়েছে। সেখানে তৌহিদুলের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। তৌহিদুল খারাপ ব্যবহার করলে তিনিও পাল্টা জবাব দেন। এ ঘটনার জেরেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে ধারণা তাঁর।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৌহিদুল বলেন, তাঁরা একই সঙ্গে থাকেন। এর আগেও তাঁদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। পরে নিজেরাই সমঝোতা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি মেসেঞ্জার গ্রুপের একটি বিষয় নিয়ে আবারও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তবে ঘটনাটি গলা চেপে ধরার মতো কিছু নয়; শুধু সামান্য হাতাহাতি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বটি নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদুল বলেন, ‘এরপর ও আমাকে কটু কথা বলেছে, আমিও বলেছিলাম একেবারে বটি দিয়ে দিব। বটিটা সামনে মাটিতে ছিল। প্রায় দুই সেকেন্ডের মতো আমার হাতে ছিল। এক সিনিয়র বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি সেটা রেখে দিই।’

এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।