বারেন চাকমা: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।
প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর সই করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অনিবার্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ ও পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
অবরোধ স্থগিতের পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। এর ফলে সাজেকে যাতায়াতের পথে পর্যটকবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। নারী ও শিশুসহ অনেক পর্যটক ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠন দুটি ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর জেলা প্রশাসনও পর্যটকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
পর্যটন ব্যবসায় স্বস্তির প্রত্যাশা
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সাজেকের হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক পর্যটক সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়েছিল।
তবে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হলেও স্থানীয় পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণকারীদের যাত্রার আগে হোটেল বা রিসোর্টের বুকিং নিশ্চিত করা, যাতায়াতের অবস্থা জেনে নেওয়া এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।২১ অক্টোবরের পর কী হবে?
জেলা প্রশাসনের ঘোষণায় ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অবরোধ স্থগিতের ঘোষণাতেও একই সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।
তবে ২১ অক্টোবরের পর পরিস্থিতি কী হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করতে হবে।সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।














