অতিন বিশ্বাস: মহা ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে শুরু হবে উৎসবের আয়োজন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে শেষ হয়েছে প্রস্তুতি; অপেক্ষা এখন পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতার।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হচ্ছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে। সারা দেশে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজার আয়োজনের তথ্য জানা গেছে।
মহাষষ্ঠীর তাৎপর্যসনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে তাঁকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। পূজার এ পর্বে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতাও পালন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপে দেবীর আরাধনার মূল পর্ব শুরু হয়।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলারও অংশ। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের সমাগম, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের আয়োজন হয়ে থাকে।
পূজার পরবর্তী দিনের কর্মসূচিপঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীর পর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, মহাষ্টমীতে অঞ্জলি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার এবং মহানবমীতে বিশেষ পূজা-অর্চনার আয়োজন থাকবে।
আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব শেষ হবে। তবে বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপ ও আয়োজক কমিটির নিজস্ব কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানসূচিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশাদুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে চলাচল, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা এবং মণ্ডপের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপনের প্রত্যাশা সবার।














