জয়শ্রী রানী: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং শেখ হাসিনার পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, তাঁর বিচার, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্যের বরাতে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২৪আপডেটনিউজ এবং ১৩ অক্টোবর ওটিএন বাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সাক্ষাৎকারে রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিচার হতে পারে, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হতে পারে তবে বর্তমান সরকারের সেই সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। এ বিষয়ে নিজের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও টানেন।রুমিন ফারহানা আরও বলেন, তিনি কখনো শেখ হাসিনার দলে ছিলেন না এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও যুক্ত নন। তাই শেখ হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের পর্যবেক্ষণ থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরছেন বলে জানান এই সংসদ সদস্য।
আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সে বিষয়েও মত দেন রুমিন ফারহানা। তাঁর মতে, দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি রায়ের সময় দেশের বাইরে ছিলেন। ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রসিকিউটর জানান, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করায় তাঁর আপিলের সুযোগ আর নেই বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে।
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়া, আইনগত বিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।রুমিন ফারহানার মন্তব্যটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সরকারের সক্ষমতা সম্পর্কে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি বক্তব্য নয়।














