অতিন বিশ্বাস: ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রেনটির রুট সম্প্রসারণের ফলে নরসিংদী, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার দপ্তরের আদেশে নতুন রুট ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সময়সূচিনতুন সূচি অনুযায়ী, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ৭২১ নম্বর ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরবে। ফিরতি ট্রেনের কক্সবাজার থেকে ছাড়ার সময় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সকাল ৮টা ও ৯টার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে ট্রেনটির প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে রেলওয়ের সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।যেসব স্টেশনে থামবেনতুন রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এসব এলাকার যাত্রীরা নিজ নিজ স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবেন।
তবে নতুন সূচিতে চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ফলে কুমিরা এলাকার যাত্রীদের কক্সবাজার যেতে বিকল্প ট্রেন বা অন্য পরিবহন ব্যবহার করতে হবে।বাড়বে ট্রেনের সংখ্যাবর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে রয়েছে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়বে।
ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন থাকবে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে যাত্রীরা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারবেন।রুট সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা–চট্টগ্রাম করিডরের মধ্যবর্তী স্টেশনগুলো থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব যাত্রীকে আগে চট্টগ্রামে এসে অন্য ট্রেনে উঠতে হতো, তাঁদের জন্য নতুন সেবাটি সুবিধা তৈরি করবে।
তবে নতুন সূচি কার্যকর হওয়ার পর ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থা ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে টিকিটের প্রাপ্যতা, ভাড়া ও সর্বশেষ সময়সূচি বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।














