সারিকা জাহান: রোনালদোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোলের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে হালান্ড ও এমবাপ্পে। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড দীর্ঘদিন ধরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে।
পর্তুগিজ এই মহাতারকার ১৪০ গোলের রেকর্ডকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের দুই আলোচিত স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল করার ধারাবাহিকতা, কম ম্যাচে মাইলফলক ছোঁয়া এবং বয়সের কারণে তাঁদের ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।
উয়েফার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে এমবাপ্পের গোল ৭১টি, যা তিনি করেছেন ৯৯ ম্যাচে। অন্যদিকে, হালান্ড ৫৯ ম্যাচে করেছেন ৫৯ গোল। অর্থাৎ গোলসংখ্যায় এমবাপ্পে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে হালান্ডের রেকর্ড আরও শক্তিশালী।
রোনালদোর রেকর্ড কত দূরে?চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রোনালদোর পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার গোল ১২৯টি। তৃতীয় স্থানে রবার্ট লেভানডফস্কি ১০৯ গোল নিয়ে, আর করিম বেনজেমার গোল ৯০টি। এমবাপ্পে ৭১ গোল নিয়ে ঐতিহাসিক তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন; একই সংখ্যক গোল রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেসেরও। হালান্ড ৫৯ গোল নিয়ে রয়েছেন সপ্তম স্থানে।
রোনালদোর ১৪০ গোলের রেকর্ডে পৌঁছাতে এমবাপ্পের আরও ৬৯টি এবং হালান্ডের আরও ৮১টি গোল প্রয়োজন ছিল ওই পরিসংখ্যান প্রকাশের সময়। তবে সামনে কত মৌসুম খেলবেন, দল কত দূর যাবে এবং ইনজুরি বা ফর্ম তাঁদের কতটা প্রভাবিত করবে এসবই রেকর্ডের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কম ম্যাচে গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন হালান্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্রুততম সময়ে গোলের মাইলফলক অর্জনের ক্ষেত্রে হালান্ড ইতোমধ্যে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। মাত্র ৪৯ ম্যাচে ৫০ গোল পূর্ণ করেন তিনি, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্রুততম। সালজবুর্গের হয়ে অভিষেকেই প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করে নজর কাড়েন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। পরে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়েও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
অন্যদিকে, এমবাপ্পে মোনাকোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যাত্রা শুরু করে প্যারিস সাঁ-জার্মেই ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল করেছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি প্রতিযোগিতার লিগ পর্বে ১৫ গোল করে এক মৌসুমে ওই পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়েন, যা রোনালদোর আগের ১১ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কার বেশি?হালান্ডের গোলের গতি অসাধারণ হলেও এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত মোট গোলসংখ্যায় এগিয়ে। দুজনেরই বয়স তুলনামূলক কম এবং তাঁদের সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও অনেক মৌসুম খেলার সুযোগ রয়েছে। তবে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করা, নিয়মিত নকআউট পর্বে পৌঁছানো এবং বড় ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
রোনালদোর ১৪০ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করা সম্ভব কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে হালান্ড ও এমবাপ্পের বর্তমান গোলের গতি তাঁদের এই আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। আগামী মৌসুমগুলোতে তাঁদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গোলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা সম্ভব হবে কি না।














