অবশেষে ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১২, ২০২৬

আর কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না- শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই যোগদানের ১৭ দিন পর প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ভবনের তালা কে ভেঙেছেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিজি বাংলা টেকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর উপাচার্যকে একটি চেয়ারে বসতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনকে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়। তবে তালা ভাঙার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান

গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরদিন থেকেই এ নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন উপাচার্য। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে তিনি এত দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি

চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তাঁর পদে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতিও কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়া এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়েও সম্প্রতি বিরোধ দেখা দেয়।

তালা ভাঙল কে, প্রশ্ন

নতুন উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভবনের তালা কে ভেঙেছেন এবং কার নির্দেশে তিনি সেখানে প্রবেশ করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা ওই দিন প্রধান ফটকে নিয়মিত পাহারায় ছিলেন না বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে তালা ভাঙার ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মতো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর চলমান আন্দোলন কোন দিকে এগোয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কবে চালু হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আরো পড়ুন....

ধানখেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারে হোটেল কর্মচারী গ্রেফতার