কুষ্টিয়া ডিবির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ৭, ২০২৬

কুষ্টিয়া ডিবির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

সুমা আক্তার: গ্রেপ্তারের সময় অস্ত্র না থাকলেও পরে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি করে মামলা দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার দুই যুবকের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের সময়কার ভিডিও ফুটেজে তাদের কাছে কোনো অস্ত্র না থাকার বিষয়টি দেখা যায়।

আজ বুধবার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দুই যুবকের স্বজনেরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৮) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার দুর্বাচারা গ্রামের আব্দুল্লাহ (২৮)।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহর স্ত্রী মিথিলা খাতুনের বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়।

তিনি দাবি করেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুই যুবককে দুটি পিস্তল ও ১৮ রাউন্ড গুলিসহ আটকের খবর প্রকাশিত হয়। তবে পরিবারের দাবি, আটকের সময় তাদের কারও কাছেই অস্ত্র ছিল না।মিথিলা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিবির এসআই জনি প্রথমে বংশীতলা মোড় থেকে আরিফুলকে আটক করেন।

পরে দুর্বাচারা বাজারে গিয়ে আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা উপস্থিত থাকলেও পুলিশ অস্ত্র দেখাতে পারেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়কার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় বিরোধের জেরে কয়েকজনের সঙ্গে আরিফুল ও আব্দুল্লাহর বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের সূত্র ধরে ডিবিকে ব্যবহার করে তাদের আটক করানো হয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনেরা। তবে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দুই যুবকের বিরুদ্ধে দেওয়া অস্ত্র মামলার ঘটনা তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তারকারী ডিবি কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির ওসি ফারুকুল ইসলাম বলেছেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য ‘ভিত্তিহীন’ এবং তারা ‘ভ্রান্ত তথ্য’ দিচ্ছেন। ফলে গ্রেপ্তারের সময় দুই যুবকের কাছে অস্ত্র ছিল কি না এবং পরে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।