চট্টগ্রামে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ৭, ২০২৬

চট্টগ্রামে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চললেও ফুটপাত কতটা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলেও অভিযানের পর আবারও হকারদের ফিরে আসার অভিযোগ তুলছেন নগরবাসীর একাংশ।

সম্প্রতি নগরের কাজীর দেউড়ি, লালখান বাজার, গোলপাহাড় ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এসব অভিযানে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও চলাচলের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়া হয়। মেয়রও ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের সময় হকাররা তাদের ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও পণ্যসামগ্রী সরিয়ে নিলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর অনেকেই আগের জায়গায় ফিরে আসেন। ফলে কিছু এলাকায় ফুটপাত দখল ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তির সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

নগরবাসীর একাংশের দাবি, অভিযানের খবর আগে থেকেই হকারদের কাছে পৌঁছে যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্দিষ্ট কোনো অভিযানের সময় হকারদের সরে যাওয়া ও পরে ফিরে আসার ঘটনাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযান নয়, স্থায়ী সমাধানের দাবি

নগরবাসীর মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই ফুটপাত দীর্ঘমেয়াদে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত নজরদারি, অভিযানের পর ফলোআপ এবং ফুটপাত পুনর্দখলকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করা হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তাঁদের মতে, পথচারীদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের জীবিকার বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা দরকার।

চসিকের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছে, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অভিযানের পর পুনর্দখল ঠেকাতে কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নগরবাসীর কাছে আরও স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রত্যাশিত।

চট্টগ্রামের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে শুধু অভিযানের ওপর নয়, বরং নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ওপরও।