অতিন বিশ্বাস: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই পলাতক রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তিনটি অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবহারের বিষয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে সমর্থন দেওয়া, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্র এবং জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা।
প্রসিকিউশনের দাবি, কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং আন্দোলন দমনের পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
যেভাবে এগিয়েছে বিচার
২০২৫ সালের অক্টোবরে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ায় এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।














