লোহাগাড়ায় বালু-মাটি ও পাহাড় কাটার অভিযোগ, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ৬, ২০২৬

লোহাগাড়ায় বালু-মাটি ও পাহাড় কাটার অভিযোগ, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন, ফসলি জমির মাটি কাটা ও পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও চুনতিসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এসব কর্মকাণ্ড বেশি চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থলের চিত্র পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নদী ও খালের পাড় থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার কাজ চলছে। কোথাও ড্রেজার ও পাইপ ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদী ও খালের তীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙন ও কৃষিজমি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় এক্সকেভেটর ব্যবহার করে পাহাড় ও টিলা কাটার অভিযোগও রয়েছে।

বিশেষ করে আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি কেটে ফেলার কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতীতে লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু, মাটি ও পাহাড় কাটার ফলে স্থানীয় পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এতে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, কৃষিজমি এবং পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেও অনেক সময় স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না। তাঁদের দাবি, অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা শুরু হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বালু ও মাটি উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আরো পড়ুন....

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের দাবির মুখে হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি