সৈয়দ আতিক ফয়সাল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত সোয়া ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো জানান।
এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন এবং উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা।আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।
এর মধ্যে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, সাময়িক ও স্থায়ী বহিষ্কার এবং ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল।প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
এ ছাড়া হামলার ঘটনায় যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ছাত্রত্ব নেই, তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। হামলার পেছনে ইন্ধন বা উসকানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হামলার সময় দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাধ্যক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও বলেছেন, প্রাধ্যক্ষ ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য দায়ী নন; তবে আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার এবং আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে














