ডাকাতির চেষ্টা পর্যটকবাহী জাহাজে

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ৪, ২০২৬

ডাকাতির চেষ্টা পর্যটকবাহী জাহাজে

আব্দুল মালেক: বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় পর্যটকবাহী একটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে বনদস্যুরা। তবে বনরক্ষীদের তৎপরতা ও গুলিবর্ষণের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা খালের সাগর মোহনায় নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজ "দি ওয়েভ-২"-এর কাছে এই ঘটনা ঘটে।

কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) তানভির হাসান ইমরান রাত ১১টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অজ্ঞাতপরিচয় একদল বনদস্যু ইঞ্জিনচালিত একটি ফিশিং ট্রলারে করে কটকা খালের সাগর মোহনায় নোঙর করে থাকা জাহাজটির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এ সময় মোহনায় সাগরে অবস্থানরত জেলেরা বিষয়টি লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে বনরক্ষীদের জানান।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বনরক্ষীরা একটি টহল বোট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়ে সন্দেহভাজন ট্রলারটির পিছু নেন। ট্রলারটি জাহাজের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে বনরক্ষীরা তাদের লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির মুখে ট্রলারটি দিক পরিবর্তন করে দ্রুত সাগরের দিকে পালিয়ে যায়, ফলে পর্যটকবাহী জাহাজের কাছাকাছি পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় দস্যুরা।

জাহাজ "দি ওয়েভ-২"-এর মাস্টার মো. শামিম আলম জানান, দস্যুরা এগিয়ে আসছে এমন খবর বনরক্ষীদের কাছ থেকে আগেই পেয়েছিলেন তাঁরা। ঘটনার সময় কটকা এলাকায় "দি ওয়েভ-২" ছাড়াও "আরালসী" নামের আরেকটি পর্যটকবাহী জাহাজও অবস্থান করছিল। দুটি জাহাজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৯৭ জন পর্যটক ছিলেন। বনরক্ষীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পর্যটকেরা নিরাপদে থাকলেও, দস্যুদের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কটকার মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় পর্যটকবাহী জাহাজের কাছাকাছি এভাবে দুর্বৃত্তদের সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে আসার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কেননা এর আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যুদের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে।

আরো পড়ুন.....

৭-০ গোলে আর্জেন্টিনার বিশাল জয়, উড়ে গেল বুরকিনা ফাসো