অতিন বিশ্বাস: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান আজ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে জ্বালানি পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানির চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে তা আনা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার কথা রয়েছে। তবে জ্বালানি পৌঁছানো, চুল্লিতে তা স্থাপন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনুমোদন প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব।
প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্ষেত্রেও উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইউনিটটির একটি স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা সফল হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা সফল হওয়া বা জ্বালানি পৌঁছানোকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
জ্বালানি পরিবহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পাবনার প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহের পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হলে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে যাবে। তবে কবে নাগাদ ইউনিটটি পরীক্ষামূলক বা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।














