জয়শ্রী রানী: দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কিছু সার ডিলার বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত করতে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।
জাতীয় সংসদে দেশের চলমান সার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আলোচনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কৃষকের সার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি গুদামে সার থাকার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না।
মীর শাহে আলম বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার বর্তমানে এলাকায় নেই বা তাদের ডিলার পয়েন্ট কার্যকর নেই। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার বিতরণে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি সার ডিলার পয়েন্ট শূন্য রয়েছে। কৃষকের কাছে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার বিতরণব্যবস্থা সচল রাখতে নতুন ডিলার ও খুচরা ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সরকার জানিয়েছে।
অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা দাবি করেন, সার মজুত থাকার পরও কৃষকেরা বিভিন্ন এলাকায় সংকটে পড়ছেন। কোথাও কোথাও বেশি দামে সার বিক্রি, কালোবাজারি এবং ডিলারদের সিন্ডিকেটের অভিযোগও আলোচনায় উঠে আসে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা কৃষকের হাতে সরাসরি সার পৌঁছানোর বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
চলমান পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের অসন্তোষের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় দেশে সারের মজুত বেশি থাকলেও কিছু এলাকায় কৃষকেরা প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, আগামী মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত, কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি দাবি ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতার মধ্যে যে পার্থক্য উঠে এসেছে, তা মোকাবিলায় সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিলার পর্যায়ে সার বিতরণ, নির্ধারিত দামে বিক্রি এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।














