অতিন বিশ্বাস: রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের কার্যালয়ে অবস্থিত ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির নিজেই ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওতে ঘটনার বিষয়টি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন না। পরে ঢাকায় ফিরে স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেন এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হামলার সময় স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। স্টুডিওর সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল লুট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার পর স্টুডিওর ভেতরের বিভিন্ন অংশ এলোমেলো ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার আগে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে চাঁদা দাবি কিংবা হামলার সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।
স্টুডিও সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। কয়েকজন কর্মী নিরাপত্তার জন্য ভেতরে আশ্রয় নেন বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। হামলাকারীরা স্টুডিওর কিছু ব্যক্তিগত মালামাল ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো হয়নি।
সালমান মুক্তাদির জানিয়েছেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজের ফুটেজ, শুটিং সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রাখা ছিল। এসব সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চলমান কাজও ব্যাহত হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মোট ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ জানানো হয়নি।
ঘটনার সময় স্টুডিওতে থাকা কর্মীদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকলেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সালমান মুক্তাদির জানিয়েছেন, তার কোনো কর্মী হামলায় আহত হননি।
এদিকে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এই হামলা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখন সামনে এসেছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ ও আর্থিক ক্ষতির হিসাবও পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।














