সারিকা জাহান: উয়েফা নেশনস লিগে নাটকীয় এক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্পেন।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের একাধিক ভুল এবং হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয় মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে লামিনে ইয়ামাল বল জালে পাঠান। গোল হজমের পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে স্বাগতিকরা। স্পেনের আক্রমণের চাপ সামলে ইংল্যান্ড নিজেদের আক্রমণেও গতি বাড়ায়।
৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের তৈরি করা সুযোগ থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। মাত্র চার মিনিট পরেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। নিকো ও'রেইলির ক্রস থেকে হ্যারি কেইনের হেড স্পেনের মার্ক কুকুরেয়ায় গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। বক্সের মধ্যে বেলিংহ্যাম ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের পর পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু স্পটকিক নিতে গিয়ে কেইন পিছলে যান এবং তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে এই পেনাল্টি মিস।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। ৬০ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আলেক্স বায়েনা গোল করে সমতা ফেরান। এরপর ইংল্যান্ডের রক্ষণে আবারও ফাঁক তৈরি হয়। বায়েনার পাস থেকে ৭৪ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল গোল করে স্পেনকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও আর সফল হয়নি ইংল্যান্ড। ফলে ওয়েম্বলিতে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নেশনস লিগের গ্রুপ এ৩-তে শুভ সূচনা করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল আক্ষেপের—বিশেষ করে দুই গোলের পরও জয় ধরে রাখতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি কাজে লাগাতে না পারায়।
স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করা ওইয়ারসাবালের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ। ২০২৪ ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করলেন তিনি।














