চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বহদ্দারহাটস্থ ইউনাইটেড কনভেনশন হলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খ্যাতিমান ইসলামী আলোচক মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান। সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফি উদ্দিন মাদানী। বিভাগীয় সদস্যসচিব ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনীর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনটি পরিচালিত হয়।

প্রধান আলোচক মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই উপমহাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়ে গেছে যে টুপি, লম্বা দাড়ি ও নির্দিষ্ট পোশাকই ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু ওয়াজ বা তাফসির উপস্থাপনের সময় পোশাকের ধরন যদি অসঙ্গত বা জোকারের মতো দেখায়, তাহলে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড কিংবা মক্কা-মদিনা থেকে বড় ডিগ্রি অর্জন করলেও সাধারণ জনগণ সেই বক্তব্য সহজে গ্রহণ করবে না। অনেক আলেম-ওলামা ভাইরাল হওয়ার নেশায় বিতর্কিত কথা বলে নিজেকে আলোচনায় আনার চেষ্টা করেন, মাহফিলের আলোচনায় এমন বিতর্কিত বিষয় স্থান দেওয়া উচিত নয়।

প্রধান অতিথি মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, নির্বাচনের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, বিগত ছয় মাসে তাদের কার্যকলাপ দেখে জনগণ চরমভাবে হতাশ ও উদ্বিগ্ন। দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার যে অঙ্গীকার তাদের ছিল, তারা সেসব অঙ্গীকার অস্বীকার করে আবারও দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন শুরু করেছে। তারা যেভাবে জনগণের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে, ঠিক তেমনিভাবে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও মুসলিম জাতিসত্তার ওপরও আঘাত হেনে চলেছে এবং জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার ছোটখাটো বিষয়ে এখতেলাফ ও ঐক্যের অভাব। ইসলামী আন্দোলনের শাহাদাতবরণকারী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেদের সবকিছু কুরবানি দিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ বলেন, সামনে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজনের পরিবেশ মসৃণ হবে এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই, এক ফেরাউন বিদায় হয়, অন্য ফেরাউনরা তার জায়গা দখল করে। সেক্যুলার, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বামপন্থীরা কোরআনের মাহফিল হতে দিতে চায় না, কারণ তারা আবু জেহেল, আবু লাহাব ও ফেরাউনদের উত্তরসূরি, এসব বাধা মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জনগণের সঙ্গে ইসলামের গভীর সম্পর্ক স্থাপন, ঈমানি আবেগ তৈরি এবং সমাজে ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ওয়াজ মাহফিলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরীনদের এই ঐক্যবদ্ধ সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান বলেন, আল্লাহর আইনের কথা বললে রাজনীতি মনে করা হয়, কিন্তু মানব রচিত আইনের কথা বললে মানুষ খুশি হয়, এই অপসংস্কৃতি থেকে মানুষকে বের করে আনার দায়িত্ব আলেমদের নিতে হবে। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামকে নিতে হবে এবং মুশরিকদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি অধ্যাপক মাওলানা ড. বিএম মফিজুর রহমান আল-আযহারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আবু হানিফা মোহাম্মদ নোমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, কক্সবাজার জেলার সভাপতি মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, রাঙামাটি জেলার সভাপতি এবিএম তোফায়েল উদ্দিন, বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা মুজিবুল হক ও খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি মাওলানা আবদুল জলিল।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিন বছরের জন্য নতুন সেটআপ ঘোষণা করেন মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ। ঘোষণা অনুযায়ী বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান এবং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম। জেলা কমিটিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সভাপতি হিসেবে মাওলানা আবু হানিফা মোঃ নোমান ও সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় সভাপতি মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী ও সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল আলম জিহাদী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় সভাপতি মাওলানা মোঃ বোরহান উদ্দিন ও সেক্রেটারি মাওলানা এমদাদুল হক নিজামী, কক্সবাজার জেলায় সভাপতি মাওলানা শফিউল হক জিহাদী ও সেক্রেটারি মাওলানা আবুল ফজল, বান্দরবান জেলায় সভাপতি মাওলানা মুজিবুল হক ও সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রাশেদুল হক, রাঙামাটি জেলায় সভাপতি এবিএম তোফায়েল উদ্দিন ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম এবং খাগড়াছড়ি জেলায় সভাপতি মাওলানা মোঃ আব্দুল জলিল ও সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ শাহাদাত হোসাইন দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আরো পড়ুন...

তুরস্ককে ১–০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স