উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বৃদ্ধি ও রেকর্ড হাসপাতালে ভর্তি

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বৃদ্ধি ও রেকর্ড হাসপাতালে ভর্তি

নাবিলা কবির: বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙেছে এবং মৃতের গ্রাফও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী।
পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ (১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত)।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ১,৭৫৩ জন যা বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৭ জন। চলতি বছরে মোট শনাক্ত/ভর্তি ৫৬,৯১৬ জন এবং একই বছরে মোট মৃত্যু ১৭১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২,৫৭৯ জন (৯২.৩৮%) এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪,১৬৬ জন।

সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ দিনে মৃত্যু ৭৪ জন (মোট মৃত্যুর ৪৩.২৮%)। হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড ও আঞ্চলিক বিস্তারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১,৭৫৩ জন চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে একক দিনে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ১,৭৩৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং আশপাশের এলাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ঢাকা বিভাগ (মোট ৭৪৩ জন)। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৪ জন এবং ঢাকার বাইরের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় ৩৯৪ জন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগ ১৭৭ জন এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে। এরমধ্যে নগরীর আগরাবাদ ও মুরাদপুর এলাকার অবস্থা বেশি নাজুক বলে জানা গেছে। আমার এলাকায় পরপর দুই দিনে দুজন মারা গেছে। তারা ভীষণ জ্বর ও শরীর ব্যথায় ভূগছিল। দুজনের মোটামোটি একই অবস্থা ছিলো বলে জানাচ্ছিলেন আগরাবাদ নিবাসী জয়নাল আবেদীন।

আবার, মুরাদপুরের রেশমি আখতার বলছেন, এদিকে রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ এবং নগরীর বেশিরভাগ জায়গায় ডোবা। দিনেও মসারী ছাড়া থাকা যায় না।

  • খুলনা বিভাগ: ৩৪৯ জন (ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ)।
  • বরিশাল বিভাগ: ১৮৬ জন।
  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৭৭ জন।
  • রাজশাহী বিভাগ: ১৫৩ জন।
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ৮৩ জন।
  • রংপুর বিভাগ: ৫৩ জন।
  • সিলেট বিভাগ: ৯ জন।

মহামারীর গতিপ্রকৃতি ও মৃত্যুর বিশ্লেষণ

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুরে ১ জন করে রয়েছেন।
মাসভিত্তিক চিত্রে স্পষ্ট যে সংক্রমণের তীব্রতা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে:

জুলাই: ৯,২০৬ জন ভর্তি

আগস্ট: ২০,৫৩৬ জন ভর্তি (মৃত্যু: ৪৩ জন)

সেপ্টেম্বর (প্রথম ১৬ দিন): দৈনিক গড় ভর্তি ১,৫০০ ছাড়িয়েছে; মাত্র ১৬ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের, যা আগস্টের পুরো মাসের চেয়ে প্রায় ৭২% বেশি।
বিশেষ উদ্বেগের জায়গা চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগে চলতি বছর মোট ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দৈনিক শনাক্তও পৌনে দুই শ ছাড়িয়েছে।
জরুরি করণীয়
ডেঙ্গুর এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে এটি আর কেবল রাজধানীর সমস্যা নয়। মফস্বল ও বিভাগীয় শহরগুলোতেও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, লার্ভিসাইডিং এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট ও প্লাটিলেট সুবিধার প্রস্তুতি জোরদার করা আবশ্যক।

আরো পড়ুন...

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১