মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা সাত থেকে আটজন বলা হয়েছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ আমানত সেতু পার হওয়ার পর কলেজ বাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি ইউটার্ন নেওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। সড়পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন আরও দুজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে মিমতা ও মোর্শেদ নামে দুজন, তাদের মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ এবং মাইক্রোবাসচালক মুন্না রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাগো নিউজ।
নিহত ফেরদৌস আলম ফিরোজ কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের একটি ওষুধের দোকানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। নিহত মিমতা ও মোর্শেদ একই পরিবারের সদস্য। দুর্ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালক ও সহকারীকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। বিশেষ করে রাত ও ভোরের সময়ে ভারী যানবাহনের চলাচল এবং ইউটার্ন এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই একই পরিবারের কয়েকজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।













