পতিত স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

shohrab russel

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

পতিত স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, পতিত স্বৈরাচার আর কোনোদিন এদেশে ফিরে আসতে পারবে না। তবে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর চন্দনপুরাস্থ সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত থানা ও ওয়ার্ড কর্মপরিষদ সদস্যদের দু’দিন ব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

*ফ্যাসিবাদ ফেরার সুযোগ নেই
অধ্যাপক পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। যে স্বৈরাচার জনরোষের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের আর ফেরার সুযোগ নেই। পৃথিবীর ইতিহাস এর সাক্ষী। তিনি আরও বলেন, পদধারী কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য স্থানীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না।

জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি কাগজের দলিল নয়, এটি লাখো মানুষের ত্যাগ ও রক্তের প্রতীক। গণভোটের রায় মেনে অতিদ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে তা শহীদ ও রাজপথের লড়াকু তরুণদের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা তা বরদাস্ত করব না।

সরকারের সমালোচনা
বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অতীতের ব্যর্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বাড়ছে।

নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা
সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংগঠনিক, দ্বীনি ও রাজনৈতিক যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরকে দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য
চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিবিরে তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষকে খলিফা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। খলিফার অন্যতম গুণ হলো জ্ঞানার্জন। ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে।

শিবির সঞ্চালনা করেন নগর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ নুরুল আমিন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার। দারসুল কুরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, নগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী প্রমুখ।

আরো পড়ুন...

এআই, তথ্য সাক্ষরতা ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করল রাবিসাস