লংমার্চে ১১ দল, মতবিনিময় সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

shohrab russel

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

লংমার্চে ১১ দল, মতবিনিময় সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

জয়শ্রী রানী, নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ঘোষিত লংমার্চ উপলক্ষে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ১১-দলীয় জোট।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী; জাগপার যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী রাশেদ খান; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মজিদ আথারী; এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসেন মিয়াজী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন; বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মাওলানা মোরশেদ সিদ্দিকী; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোবারক হোসেন ও ড. রেজাউল করিম; বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

মতবিনিময়কালে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১-দলীয় জোট। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার তার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা আশা করব, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সরকার বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি লংমার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য আমরা সরকার, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শনের সুযোগ ক্ষমতাসীন দলের সামনে তৈরি হয়েছে।

সরকারকে সতর্ক করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোথাও কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে, সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানো হলে কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হলে প্রমাণিত হবে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার জুলাই সনদের আলোকে প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ ধারণ করে না। লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা আরও বাড়বে।

১১ দলের নেতারা আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে কোথাও বাধা সৃষ্টি করা হলে সব বাধা অতিক্রম করে তারা চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবেন। জনগণের অধিকার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জনগণের কাছে যাচ্ছে ১১ দল। গণভোটে জনরায় বাস্তবায়নের দাবি দেশের সব মানুষের দাবি, তাই এই লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট লক্ষ করা যাচ্ছে, যা কৃত্রিম যানজট। লংমার্চের দিন বালুবাহী ট্রাক বা খালি ট্রাক দিয়ে কোনো কৃত্রিম যানজট বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এটি সরকারের জন্য শুভ হবে না। আমরা আশা করি, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগসহ সবাই এই কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করবে।

মতবিনিময় সভায় নেতারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় ১১ দলের নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, লংমার্চ কর্মসূচির দিন সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভায় মিলিত হবে লংমার্চের গাড়িবহর। এ ছাড়া অনির্দিষ্টকালীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জনসমাগমস্থলগুলোতে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। স্থানীয় পথসভাগুলো পরিচালনা করবেন ১১ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এই লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করতে ১১-দলীয় জোটের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন...

নতুন পে-স্কেল ঘিরে প্রত্যাশা, ব্যয় ও অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রভাব