পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দাবি শাখা ছাত্রশিবিরের

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২৫, ২০২৬

পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দাবি শাখা ছাত্রশিবিরের

সৈয়দ আতিক ফয়সাল (রাবি প্রতিনিধি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ

পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
‎
‎এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,

উপ-উপাচার্যবৃন্দের কাছে এসব দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
‎
‎উল্লিখিত তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন ,

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু , পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা ,

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা।
‎
‎সম্মেলনে তারা আরও উল্লেখ করেন, “ইতোপূর্বে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো জানানো হয়েছে,

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় দাবিগুলো এখন অবধি বাস্তবায়িত হয়নি।

এমতাবস্থায় ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে।

ছাত্রশিবির মনে করে, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা,

জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।”

‎সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত রাকসু নির্বাচনেও আমরা দেখেছি প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিলো না।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের পালস্, সমর্থন এবং তাদের আগ্রহের জায়গা থেকে আমরা একটি দায়িত্বশীল সসংগঠন  থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম।

আমরা তাদের সাথে মিলে আন্দোলন করেছিলাম, ফলে তারা নির্বাচনের তফসিল দিতে বাধ্য হয়েছিলো।

বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচাল এবং বন্ধ  করার চেষ্টা হয়েছিলো।

কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কাধে-কাধ মিলিয়ে তা রুখে দিয়ে রাকসু নির্বাচন আদায় করেছি।

আবারও রাকসু নিয়ে যদি বর্তমান প্রশাসন গড়িমসি করে তাহলে আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তা রুখে দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে রাকসুর দামি আদায় করবো।
‎
‎এসময় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আম্মার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে বলেন,

জিএস (আম্মার) দাপ্তরিক কাজের কথা বলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন।

যা আমাদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী অন্য সব দপ্তর মিলে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়।

এভাবে অন্যান্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়াতে পারেন না।

আমরা কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে তার তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

সালাউদ্দিন আম্মার আমাদের প্যানেলের না হওয়ায় তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না।
‎
‎রাকসু সফল নাকি ব্যার্থ সাংবাদিকের এমন আরও একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ হয়নি কিংবা শিক্ষার পরিবেশও বিনষ্ট হয়নি।

সেই জায়গা থেকে মনে হয়, এটা রাকসু'রই ফল।

রাকসুর হওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের অনেকগুলো দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষার্থীদের জবাব চাওয়ার একটা জায়গা আছে।

কিন্তু যখন রাকসু ছিলো না তখন এই জবাবদিহিতার জায়গা ছিলো না।

এই রাকসু কতটা সফল বা ব্যার্থ তা শিক্ষার্থীরা নির্বাচন করবে আগামী রাকসু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মধ্যে দিয়ে।
‎
‎উল্লেখ্য, আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার

ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবসহ বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধি ও সংগঠনটির অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন...

ঢাকায় আয় বাড়ছে না, খরচ থামছে না

বাংলাদেশে প্রথম চাকরির বয়স: তারুণ্যের প্রত্যাশা ও কর্মজীবনের বাস্তবতা