রংপুরের চার খুনে পুলিশের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন, রহস্য আরও ঘনীভূত

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২৪, ২০২৬

রংপুরের চার খুনে পুলিশের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

অতিন বিশ্বাস: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার সময়, মরদেহের অবস্থান এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের মিল না থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তীকে প্রথমে হত্যা করা হয়।

এরপর পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করেন অভিযুক্ত দুই যুবক।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে ঘটনার পর থেকেই পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা

এবং রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকে।

তাঁদের প্রশ্ন মাত্র দুই ব্যক্তি কীভাবে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে নির্বিঘ্নে চলে গেলেন,

এবং এত বড় হত্যাকাণ্ডের পর আশপাশের কেউ কোনো শব্দ বা অস্বাভাবিকতা টের পেলেন না কেন?

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও তদন্তকারীদের সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছে। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে।

তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছিল সিঁড়ির কাছে, আর ছেলের মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের ভেতর। চারজনের গলায় কাপড় বা দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মরদেহের মুখমণ্ডল নিয়ে পাওয়া তথ্য। প্রাথমিকভাবে মুখে দাহ্য বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আশঙ্কার কথা বলা হলেও

ফরেনসিক বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে রাসায়নিক বা অ্যাসিড ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়েও। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না।

প্রতিবেশীরাও পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা জানিয়েছেন। ফলে শুধুই ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চারজনকে হত্যার ঘটনা কতটা যুক্তিসংগত তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এরই মধ্যে পুলিশের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুর জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন।

তাঁদের দাবি, দ্রুত দুজনকে গ্রেপ্তার করেই হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তবে তদন্তে নতুন মোড়ও এসেছে।

২৪ আগস্ট গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্তের ফল, ফরেনসিক প্রতিবেদন

এবং অন্যান্য সাক্ষ্যের কতটা মিল রয়েছে। কারণ একটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুধু আসামির বক্তব্য নয়,

পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন…..

সিলেটে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীকে ছুরিকাঘাত, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ