কারিনা কাপুরকে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর ডাক

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২৪, ২০২৬

কারিনা কাপুরকে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর ডাক

ডেস্ক রিপোর্ট: বেন অ্যান্ড জেরিস প্রতিষ্ঠাতা বেন কোহেনের আহ্বান: কারিনা কাপুরকে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর ডাক

আইসক্রিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেন অ্যান্ড জেরিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন কোহেন ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নিষ্ঠুর দখলদারিত্ব

এবং গাজায় চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব থাকার জন্য পরিচিত।

এবার তিনি ভারতীয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে তার এই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কোহেন বলেন, কারিনা কাপুর গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউনিলিভার

এবং তাদের আইসক্রিম ব্র্যান্ড ম্যাগনামের ভারতে বিপণন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানাতে নিজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন কোহেন।

বেন অ্যান্ড জেরিসের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেন, ইউনিলিভার ও ম্যাগনাম সক্রিয়ভাবে ইসরায়েলের সমালোচনা দমন করার চেষ্টা করছে। তার নিজের ব্র্যান্ডও এর শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কোহেনের মতে, গত ডিসেম্বরে ম্যাগনাম প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক লক্ষ্য দেখাশোনাকারী স্বাধীন বোর্ডের সদস্যদের অপসারণের চেষ্টা করেছিল।

কোহেন তার পোস্টে লেখেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বিষয়টি কারিনার নজরে আনা হলে তিনি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবেন এবং ইউনিলিভার/ম্যাগনামকে বেন অ্যান্ড জেরিসকে মুক্ত করতে উৎসাহিত করবেন।”

তিনি আরো জানান, কারিনাকে তার সাহসিকতা অব্যাহত রাখতে এবং তিনি যে মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তার প্রতি স্থির থাকতে অনুরোধ করার জন্য।

তবে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কারিনার সম্পৃক্ততা সীমিত।

তিনি ভাইরাল হওয়া “অল আইজ অন রাফাহ” স্টোরি পুনরায় শেয়ার করেছিলেন এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের একটি বিবৃতি শেয়ার করেছিলেন।

সেখানে তিনি ইসরায়েলের হাতে শিশু হত্যাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে বেন কোহেন নিজে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করে আসছেন।

ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সিনেট শুনানির সময় তিনি গ্রেপ্তার পর্যন্ত হয়েছিলেন।

এছাড়া, বেন অ্যান্ড জেরিসের মূল প্রতিষ্ঠান যখন ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তরমুজ-অনুপ্রাণিত সরবেট তৈরির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়,

তখন কোহেন নিজেই সে সরবেট তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন।

বেন অ্যান্ড জেরিসের অপর সহপ্রতিষ্ঠাতা জেরি গ্রিনফিল্ড ব্র্যান্ডের সামাজিক লক্ষ্য নিয়ে মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন।

এদিকে ইসরায়েলে বেন অ্যান্ড জেরিস আইসক্রিম উৎপাদন ও বিক্রয়কারী স্থানীয় প্রতিষ্ঠান দেশটির জন্য একটি “অফিসিয়াল আইসক্রিম ফ্লেভার” তৈরি করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মূল বেন অ্যান্ড জেরিস ব্র্যান্ড দখলকৃত পশ্চিম তীরে তাদের পণ্য বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

যার প্রেক্ষিতে ইউনিলিভার তাদের ইসরায়েলি কার্যক্রম বিক্রি করে দেয়।

যদিও তেল আবিব সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন ফ্লেভারকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এতে ততটা সন্তুষ্ট হননি। বরং অনেকেই এই উদ্যোগকে “করুণ” বলে সমালোচনা করেছেন।

আরো পড়ুন….. 

জাপানের ভূমিকম্প, আহত ২০

গ্রিসে ইসরায়েলি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে