বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে ভুলগুলো করেন

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২২, ২০২৬

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে ভুলগুলো করেন

নাবিলা কবির: বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে ভুলগুলো করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো অধিকাংশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছেই একটি স্বপ্নের মতো।

প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন।

তবে যথাযথ পরিকল্পনা ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত এমন কিছু ভুল করেন,

যা তাদের ভিসা প্রাপ্তি থেকে শুরু করে বিদেশের নতুন জীবনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। শিল্প মন্ত্রণালয়

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সচরাচর যে ১০টি বড় ভুল করে থাকেন:

১. এজেন্সির ওপর অন্ধ নির্ভরতা

অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন ও ভিসা প্রসেসিংয়ের পুরো দায়িত্ব বিভিন্ন পরামর্শক এজেন্সির ওপর ছেড়ে দেন।

অনেক সময় অসাধু এজেন্সিগুলো শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার চেয়ে তাদের নিজস্ব কমিশন বেশি থাকা কম মানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দেয়।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সব তথ্য উন্মুক্ত থাকে; নিজে গবেষণা না করা সবচেয়ে বড় ভুল।

২. ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অযথা দেরি

IELTS, TOEFL, GRE বা GMAT পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে রাখা আরেকটি সাধারণ প্রবণতা।

পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি না নিলে কাঙ্ক্ষিত স্কোর আসে না, যার ফলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেডলাইন

বা স্কলারশিপের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।

৩. স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) কপি-পেস্ট করা

SOP বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট হলো ভর্তির অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

অনেক শিক্ষার্থী ইন্টারনেট বা সিনিয়রদের লেখা থেকে হুবহু কপি করেন কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লিখে জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে আধুনিক প্লেজিয়ারিজম চেকার থাকে, ফলে মৌলিকতাহীন আবেদন সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যায়।

৪. কোর্স ও কারিকুলাম নিয়ে গবেষণা না করা

শুধুমাত্র দেশের নাম বা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং দেখে অনেকে আবেদন করেন।

কিন্তু যে বিষয়ে পড়ছেন তার পাঠ্যক্রম কেমন, সে দেশে বা আন্তর্জাতিক বাজারে তার চাকরির সুযোগ কতটা এসব বিশ্লেষণ না করলে ডিগ্রি শেষ করার পর ক্যারিয়ারে জটিলতা তৈরি হয়।

৫. পার্ট-টাইম জবের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা

অনেকে ভাবেন বিদেশে গিয়ে পার্ট-টাইম কাজ করেই সেমিস্টার ফি এবং থাকা-খাওয়ার সব খরচ চালিয়ে নেবেন।

বাস্তবে অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি থাকে।

সেখানে পৌঁছানোর পর পড়াশোনার চাপ ও কাজের সীমাবদ্ধতায় আর্থিক সংকট তীব্র রূপ নেয়।

৬. আর্থিক পরিকল্পনার ঘাটতি ও লুকানো খরচ উপেক্ষা

শুধু টিউশন ফি হিসেব করে অনেকেই রওনা দেন। কিন্তু ভিসা ফি, বিমান ভাড়া, প্রাথমিক ডিপোজিট,

স্বাস্থ্য বীমা এবং পৌঁছানোর প্রথম ২-৩ মাসের থাকা-খাওয়ার মতো প্রাথমিক খরচগুলোর (Setup Cost) সঠিক বাজেট না রাখলে শুরুতেই বিপাকে পড়তে হয়।

৭. শেষ মুহূর্তে আবেদনের প্রবণতা

আন্তর্জাতিক বৃত্তির আবেদন এবং ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লাগে।

ডেডলাইনের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবেদন করলে কাগজপত্র সংগ্রহে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে

এবং অনেক সময় ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় যথাসময়ে সেশনে যোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

৮. মৌলিক জীবনদক্ষতা ও রান্না না শেখা

বিদেশে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। দেশ ছাড়ার আগে রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার রাখা

এবং ছোটখাটো বাজার সদাইয়ের মতো প্রাথমিক দক্ষতাগুলো না শেখার কারণে নতুন পরিবেশে মানসিক ও শারীরিকভাবে দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে।

৯. আবহাওয়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কে না জানা

ইউরোপ বা কানাডার চরম শীতের আবহাওয়া এবং শহরভিত্তিক খরচের তারতম্য সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা না নিয়ে যাওয়া একটি বড় ভুল।

সঠিক পোশাকের অভাব বা মাত্রাতিরিক্ত খরুচে শহরে আবাসন নেওয়ার ফলে প্রথম মাসগুলো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।

১০. ইমিগ্রেশন ও দেশের আইনকানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা

প্রত্যেক দেশের ভিসা ও কাজের আলাদা নিয়মকানুন থাকে (যেমন: কাজের নির্ধারিত সময়সীমা, ট্যাক্স ফাইলিং

বা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা)। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা থেকে শুরু করে দেশে ফেরত পাঠানো (Deportation) পর্যন্ত হতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার যাত্রা সফল করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, নিজে খোঁজাখুঁজি করার মানসিকতা এবং বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা।

সঠিক তথ্য ও সতর্কতাই পারে এই যাত্রাকে নিরাপদ ও ফলপ্রসূ করতে।

আরো পড়ুন….. 

প্লাস্টিক মাটিতে ২ বছরে সম্পূর্ণরূপে পচে যায়: গবেষণা