বাপ্পা মজুমদার: মহারাষ্ট্র এফডিএ-র নোটিশ বিতর্ক।
অজয় দেবগণ ও শাহরুখ খানের পুরোনো মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় বলিউড তারকাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং তার নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ প্রশাসন (FDA) দেশটির শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ
এবং টাইগার শ্রফের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ বিজ্ঞাপনের কারণে শো-কজ নোটিশ জারি করার পর এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, একটি বিশেষ এলাচি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের আড়ালে মূলত নিষিদ্ধ গুটখা ও পানমশালার সারোগেট বা পরোক্ষ প্রচার চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই তারকাদের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা পণ্যের প্রচারের দায়বদ্ধতা নিয়ে পুরনো বিতর্ক ও তাঁদের মন্তব্যগুলো ফের সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এফডিএ নোটিশের মূল কারণ কী?

মহারাষ্ট্রের এফডিএ বিভাগ কর্তৃক জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে যে, এই তারকারা যে 'বিমল এলাচি'র (Vimal Elaichi) বিজ্ঞাপন করছেন,
তা আদতে নিষিদ্ধ পণ্য 'বিমল পানমশালা'-র পরোক্ষ বা সারোগেট বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে তামাক বা নিকোটিনযুক্ত গুটখা ও পানমশালার উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এলাচির নামে এই ধরনের বিজ্ঞাপন consommateurs বা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
আর এই আইনি পদক্ষেপের পরই অতীতে এই ধরনের বিতর্কিত পণ্যের প্রচার নিয়ে অজয় দেবগণ ও শাহরুখ খানের দেওয়া যুক্তিগুলো আবারও সামনে চলে এসেছে।
অজয় দেবগণের প্রতিক্রিয়া: এলাচি প্রচার বনাম ব্যক্তিগত পছন্দ
এই ব্র্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত থাকা অভিনেতা অজয় দেবগণ অতীতে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।
একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন যে, কোনো পণ্যের প্রচার করা
বা না করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি পছন্দ।
তিনি বলেন, কোনো কাজ করার আগে মানুষ বিবেচনা করে দেখে সেটি কতটা ক্ষতিকর আর কতটা নয়।
তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেছিলেন যে তিনি কেবল এলাচির প্রচার করছেন।
অজয়ের মতে, বিজ্ঞাপনের চেয়েও বড় কথা হলো কোনো পণ্য যদি সত্যিই এত বেশি ক্ষতিকর হয়,
তবে সেগুলোর উৎপাদন এবং বিক্রিই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
তাঁর মতে, বাজার থেকে পণ্য বিক্রি বন্ধ না করে কেবল তারকাদের প্রচারণাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটা সঠিক নয়।
অন্যদিকে, শাহরুখ খান বলছেন, 'আমি একজন অভিনেতা, আমার কাজ অর্থ উপার্জন করা'
অতীতে বিতর্কিত পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং চলচ্চিত্রে ধূমপান বা অন্যান্য ক্ষতিকর পণ্যের প্রচার নিয়ে শাহরুখ খানের
একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কফি বা কোমল পানীয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিতর্কিত পণ্যের প্রচার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহরুখ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায়
তাঁর লজিক বা যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।
শাহরুখ খান অতীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি যেকোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবেন
যে সমস্ত পণ্য স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, সেগুলো যেন দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়।
ধূমপান বা সফট ড্রিংকস যদি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য বিষাক্ত হয়, তবে তার উৎপাদন
ও প্রস্তুতকরণই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করছে না
কারণ এগুলো থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব বা রেভিনিউ আসে।
সরকারের যদি এই সমস্ত পণ্য থেকে রাজস্ব অর্জনে কোনো বাধা না থাকে, তবে অভিনেতাদের অর্থ উপার্জনে কেন বাধা দেওয়া হবে এমন প্রশ্ন তুলে শাহরুখ বলেছিলেন:
"আমার যুক্তি হলো, আপনারা যখন এগুলোকে রাজস্বের উৎস হিসেবে বন্ধ করছেন না, তখন আমার রাজস্বও বন্ধ করবেন না।
আমি একজন অভিনেতা, আমাকে একটা কাজ করতে হয় এবং তা থেকে উপার্জন করতে হয়।
খুব স্পষ্ট কথা হলো যদি আপনাদের মনে হয় কোনো কিছু ভুল, তবে তা বন্ধ করুন, সেগুলোর তৈরি করা বন্ধ করে দিন।"
তারকার দায়বদ্ধতা বনাম সরকারি নীতি
মহারাষ্ট্র এফডিএ-র সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বলিউড তারকাদের জন্য নতুন আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।
একদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি, অন্যদিকে তারকাদের পুরোনো
এই যুক্তিগুলো সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপন জগতের নৈতিকতা নিয়ে আবারও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন বা সারোগেট মার্কেটিং রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে,
সেখানে তারকাদের এই ধরনের আর্থিক চুক্তি ও দায়বদ্ধতা ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













