জয়শ্রী সরকার: মেটার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে জার্মানি।
জার্মানির ওকালতি গোষ্ঠীর সদস্যরা মেটা এবং জার্মানিতে অবস্থিত সংস্থাটির প্রযুক্তিগত এআই চশমা বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
ওকালতি গোষ্ঠীর দাবি এই ডিভাইসগুলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে।
তারা আরো বলেছে, অধিকার গোষ্ঠীটির দাবি, মেটার এআই স্মার্ট গ্লাসগুলোর নকশা ও কার্যপ্রণালী সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে।
ডিভাইসটিতে গোপন ক্যামেরা ও অডিও রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকায় মানুষের অজান্তেই তাদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হবে যা জার্মান আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা হেট এইড (HateAid) বলেছে, রে-ব্যান মেটা ওয়েফেয়ারারের মতো ডিভাইসের উন্মোচন জার্মান গোপনীয়তা আইন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এটি এমন একটি দেশে আইনি পর্যালোচনার সর্বশেষ লক্ষণ, যেখানে গোপনীয়তার অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হেট এইড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, “স্মার্ট গ্লাস থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই।
যেকোনো মুহূর্তে আপনার ভিডিও ধারণ করা হবে এবং তারপর তা ইন্টারনেটে প্রকাশ হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নিতে হবে।”
জার্মানির ওকালতি গোষ্ঠীর সদস্যরা ফেডারেল ডেটা সুরক্ষা আইনের উপর ভিত্তি করে অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
দেশটির আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের সম্মতি ছাড়া বা তাদের অলক্ষ্যে অডিও-ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধাসংবলিত যোগাযোগ প্রযুক্তি যন্ত্র বিক্রি বা ব্যবহার নিষিদ্ধ।
মানুষের অজান্তে তাদের ভিডিও ধারণ করার জন্য তৈরি যোগাযোগ ডিভাইস বিক্রি নিষিদ্ধ করে।
ফেডারেল নেটওয়ার্ক এজেন্সি এর আগে ২০২৩ সালের শেষের দিকে স্মার্ট গ্লাস নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিল,
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনে অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম সংযুক্ত ডিভাইসগুলো নিষিদ্ধ।
সম্প্রচারকারী সংস্থা এসডব্লিউআর জুলাই মাসে রিপোর্ট করেছিল, হামবুর্গ-ভিত্তিক একটি রাষ্ট্রীয় ডেটা সুরক্ষা সংস্থাও স্মার্ট গ্লাসের ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিশ্বের যেসব দেশে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, জার্মানি তার অন্যতম।
মেটার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপের ফলে ইউরোপ জুড়ে এআই প্রযুক্তি ও এর ব্যক্তিগত ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হলো।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













