এআই ডিপফেকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দারস্থ শ্রুতি হাসান

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ৪, ২০২৬

এআই ডিপফেকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দারস্থ শ্রুতি হাসান

বিনোদন ডেস্ক: এআই ডিপফেকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দারস্থ শ্রুতি হাসান।

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান তাঁর ব্যক্তিত্ব ও প্রচার অধিকার রক্ষার দাবিতে বম্বে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক কনটেন্ট, ভুয়ো এনডোর্সমেন্ট, অননুমোদিত মার্চেন্ডাইজ এবং মরফড ছবি-ভিডিওর বিরুদ্ধে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। Candour Legal

আদালতে দাখিল করা আবেদনে অভিনেত্রীর অভিযোগ করেছেন, হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও ইংরেজি চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার সুবাদে তাঁর নাম একটি স্বতন্ত্র ও বাণিজ্যিক মূল্য অর্জন করেছে।

যা এখন শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি তাঁর সঙ্গেই যুক্ত হয়ে গেছে।

এই স্বীকৃতির অপব্যবহার করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি তাঁর নাম, ছবি ও পরিচয়ের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই মামলায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, অভিযোগে বলা হয়েছে যে জেনারেটিভ এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে অভিনেত্রীর মুখ বসিয়ে আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক ছবি-ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে।

যার মধ্যে পর্নোগ্রাফিক উপাদানও রয়েছে।

এই ধরনের কনটেন্ট তাঁর মর্যাদা ও নৈতিক অধিকারে (মোরাল রাইটস) সরাসরি আঘাত হানছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বাণিজ্যিক মামলায় একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।

যাঁদের 'জন ডো' বিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় অর্থাৎ যাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি কিন্তু যারা এই কনটেন্ট প্রচার বা হোস্ট করার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

বিবাদীদের তালিকায় রয়েছে মহালক্ষ্মী আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফট ওয়ার্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ফ্লিপকার্টে অনুমতি ছাড়াই শ্রুতি হাসানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পোস্টার বিক্রি করছে।

(Getty Images)

এছাড়াও তালিকায় আছে একাধিক সেলিব্রিটি বুকিং ও এনডোর্সমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ফ্যাশন ও গয়না সংক্রান্ত ব্যবসা, এবং গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব, মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, এক্স কর্প

এবং পিন্টারেস্টের মতো বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাও, যাদের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনমূলক কনটেন্ট হোস্ট বা প্রচারে সহায়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মামলা দায়ের অনুমতি

বিচারপতি অভয় আহুজা লেটার্স শ্রুতি হাসানকে বাণিজ্যিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমতি (লিভ) প্রদান করেছেন।

যেহেতু মামলার একাংশের কারণ (cause of action) আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ারের বাইরে থেকে উদ্ভূত, তাই এই বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল,

যা আদালতকে এই এখতিয়ারগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মামলাটি শুনানির ক্ষমতা দেয়।

এই মামলা এখন অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির (ইন্টেরিম রিলিফ) জন্য বিচারপতি মাধব জামদারের এজলাসে উত্থাপিত হবে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

-প্রেসপয়েন্টবিডি/বিনোদন

আরো পড়ুন....সাই পল্লবীর বাড়ির অন্দরমহল: অন্দরসজ্জা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য