স্বাস্থ্য ডেস্ক: (নাবিলা কবির: নিজস্ব প্রতিবেদক): ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ও প্রতিরোধ
ক্যান্সার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মরণব্যাধি হলেও সচেতনতা এবং সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এর ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
ক্যান্সার মূলত শরীরের কোষের অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হয়। মেডিকোভার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় এবং এর পেছনের কারণগুলো অনেকটাই স্পষ্ট।
ক্যান্সার তৈরির ট্রিগারিং ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহ
ক্যান্সার সৃষ্টির পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ট্রিগারিং ফ্যাক্টর বা পরিবেশগত ও জীবনযাত্রাসংক্রান্ত ঝুঁকি কাজ করে:
ধূমপান ও জর্দা সেবন: ফুসফুস, মুখ গহ্বর ও পেটের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, রেড মিট (গরু ও খাসির মাংস), ভাজাপোড়া এবং ফাস্টফুদ গ্রহণ পাকস্থলী ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
শারীরিক অলসতা ও স্থূলতা:
কায়িক পরিশ্রম না করা এবং অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।
রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয়তা:
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত রোদের অতিবেগুনি রশ্মি এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা।
ইনফেকশন বা সংক্রমণ:
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) বা হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ।
পারিবারিক ইতিহাস বা পজিটিভ ফ্যামিলি হিস্ট্রির গুরুত্ব
ক্যান্সার প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে পারিবারিক ইতিহাসের (Positive Family History) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব ক্যান্সার বংশগত না হলেও প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যান্সার সরাসরি জিনগত মিউটেশনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়ায়।
ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ:
পরিবারে নিকটাত্মীয় যেমন—মা, বাবা, ভাই বা বোনের যদি স্তন, ডিম্বাশয়, কোলন বা প্রোস্টেট ক্যান্সার থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের সেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
জিনগত পরীক্ষা (Genetic Testing):
পারিবারিক ইতিহাস থাকলে 'BRCA1' বা 'BRCA2'-এর মতো জিন মিউটেশন পরীক্ষা করে পূর্বেই ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
পূর্বাহ্নেই স্ক্রিনিং (Early Screening): যাদের পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক কম বয়স থেকেই নিয়মিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং (যেমন—ম্যামোগ্রাফি, কোলনোস্কোপি) শুরু করা উচিত।
ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়
জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব:
- ১. তামাক ও মদপান ত্যাগ: যেকোনো ধরনের ধূমপান, জর্দা বা অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।
- ২. সুষম খাবার গ্রহণ: খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, তাজা ফলমূল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।
- ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা উচিত।
- ৪. ভ্যাকসিন বা টিকাদান: হেপাটাইটিস-বি (যকৃৎ ক্যান্সারের জন্য) এবং এইচপিভি (জরায়ুমুখ ক্যান্সারের জন্য) প্রতিরোধক টিকা সময়মতো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
- ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: শরীরে কোনো অস্বাভাবিক চাকা, দীর্ঘদিন ধরে কাশি বা অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নিজের জীবনযাত্রাকে সুশৃঙ্খল করা এবং পারিবারিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থেকে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য













