স্বাস্থ্য ডেস্ক: (নাবিলা কবির: নিজস্ব প্রতিবেদক): গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ (Gestational Hypertension)।
গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বা জেস্টেশনাল হাইপারটেনশন হলো গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর প্রথমবারের মতো রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া (\ge ১৪০/৯০ mmHg)। অ্যাপোলো হাসপাতাল, দিল্লি
তবে এতে প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি (Proteinuria) বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের (যেমন—লিভার, কিডনি) কোনো ক্ষতি পরিলক্ষিত হয় না। প্রসবের পর সাধারণত ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে মূল ভূমিকা পালন করে:
গর্ভফুলের (Placenta) ত্রুটি:
গর্ভাবস্থার শুরুতে গর্ভফুলের রক্তনালীগুলো সঠিকভাবে গঠিত না হলে জরায়ুতে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়।
রক্তনালীর সংকোচন:
অমরা থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থের কারণে মায়ের শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।
অনাক্রম্যতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া (Immune Response):
গর্ভস্থ ভ্রূণের প্রতি মায়ের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

Press Point bd
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী (Risk Groups)
যাঁদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
প্রথম গর্ভধারণ:
প্রথমবার মা হতে যাওয়া নারীদের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি।
বয়স:
২০ বছরের কম বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করা।
পূর্ববর্তী বা পারিবারিক ইতিহাস: আগের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকা বা পরিবারে মা/বোনের গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস।
বহুগর্ভাবস্থা (Multiple Pregnancy):
গর্ভে জমজ বা তার বেশি সন্তান থাকা।
স্থূলতা:
গর্ভধারণের পূর্বে শরীরের অতিরিক্ত ওজন (BMI \ge ২৫)।
দীর্ঘমেয়াদী রোগ:
ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) থাকা।
ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা (Management)
নিয়মিত পরিচর্যা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই অবস্থার মূল লক্ষ্য
নিয়মিত পরীক্ষা ও মনিটরিং:
প্রতি সপ্তাহে বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ মাপা।
প্রস্রাবে প্রোটিন ফুটছে কি না তা নিয়মিত স্ট্রিপ দিয়ে পরীক্ষা করা (প্রি-এক্লাম্পসিয়া শনাক্তের জন্য)।
বিশ্রাম ও জীবনযাত্রা:
পর্যপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ মুক্ত থাকা।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাম কাতে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া, যাতে জরায়ু ও গর্ভফুলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে।
মেডিকেল চিকিৎসা:
রক্তচাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে (সাধারণত \ge ১৫০/১০০ mmHg) গর্ভস্থ শিশুর নিরাপত্তার কথা ভেবে চিকিৎসকের দেওয়া নিরাপদ অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ (যেমন—লাবেটালল, আলফা মিথাইলডোপা বা নিফেডিপিন) নিয়ম মেনে খাওয়া।
সন্তান প্রসবের পরিকল্পনা:
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে সাধারণত ৩৭-৩৮ সপ্তাহে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়।
তবে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত প্রসবের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
প্রতিরোধ (Prevention)
পুরোপুরি প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ঝুঁকি কমাতে কিছু সচেতনতা জরুরি:
- ১. প্রাক-গর্ভধারণ পরামর্শ (Pre-conception Counseling): গর্ভধারণের আগেই ওজন ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা।
- ২. পুষ্টিকর খাদ্য ও খাদ্যলবণ: খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ বর্জন করা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
- ৩. প্রারম্ভিক এন্টিনেটাল কেয়ার (ANC): গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সান্নিধ্যে থাকা।
মনে রাখা ভালো: গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে তা প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা এক্লাম্পসিয়া (খিঁচুনি)-র মতো বিপজ্জনক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মেপে নিরাপদ থাকা জরুরি।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য













