স্বাস্থ্য ডেস্ক: (নাবিলা কবির: নিজস্ব প্রতিবেদক): গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus - GDM)
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জিডিএম (GDM) হলো এমন এক ধরণের ডায়াবেটিস যা গর্ভাবস্থার আগে বিদ্যমান ছিল না,
কিন্তু গর্ভধারণের পর (সাধারণত ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে) প্রথমবারের মতো রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। সন্তান প্রসবের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ডায়াবেটিস আপনাতেই সেরে যায়। Johns Hopkins Medicine
কারণ (Causes)
গর্ভাবস্থায় গর্ভফুল (Placenta) থেকে বিভিন্ন ধরনের হরমোন (যেমন—হিউম্যান প্ল্যাসেন্টাল ল্যাকটোজেন, ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন ও কর্টিসল) নিঃসৃত হয়।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স:
এসব হরমোন মায়ের শরীরে ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স)।
প্যানক্রিয়াসের অক্ষমতা:
অতিরিক্ত ইনসুলিনের চাহিদা মেটাতে অগ্ন্যাশয় (Pancreas) যখন পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়।
যাঁদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি:
পারিবারিক ইতিহাস:
পরিবারে (মা, বাবা বা ভাই-বোনের) ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে।
অতিরিক্ত ওজন:
গর্ভধারণের পূর্বে বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৫ বা তার বেশি থাকা।
বয়স:
২৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণ করা।
পূর্ববর্তী ইতিহাস:
আগের গর্ভাবস্থায় GDM থাকা, অতিরিক্ত ওজনের (৪ কেজির বেশি) শিশু জন্ম দেওয়া, বা অতীতে মৃত সন্তান (Stillbirth) প্রসবের ইতিহাস।
PCOS:
পলিকোস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) নামক হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে।
ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা (Management) জিডিএম নিয়ন্ত্রণের প্রধান লক্ষ্য হলো মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখা:

Press Point Bd
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন:
রিফাইন্ড শর্করা (মিষ্টি, কোল্ড ড্রিন্কস, ময়দা) এড়িয়ে চলা। এবং জটিল শর্করা (লাল চাল, লাল আটা), পর্যাপ্ত শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার এবং প্রোটিন গ্রহণ। একবারে বেশি না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া।
শারীরিক পরিশ্রম:
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা।
রক্তের শর্করা মনিটরিং:
নিয়মিত ঘরে বসেই গ্লুকোমিটার দিয়ে ফাস্টিং এবং খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরের রক্তের গ্লুকোজ মেপে রেকর্ড রাখা।
মেডিকেল চিকিৎসা:
খাদ্যভ্যাস ও ব্যায়ামে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে না আসলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন ইনজেকশন
বা অনুমোদিত ওষুধ (যেমন—মেটফর্মিন) ব্যবহার করা।
প্রতিরোধ (Prevention)
যদিও সবক্ষেত্রে জিডিএম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ এর ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়:
১. গর্ভধারণের পূর্ব প্রস্তুতি: সন্তান নেওয়ার আগেই শরীরের ওজন আদর্শ সীমার মধ্যে নিয়ে আসা।
২. স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা: গর্ভধারণের আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা এবং সুষম খাবার খাওয়া।
৩. প্রারম্ভিক স্ক্রিনিং: ঝুঁকি থাকলে গর্ভাবস্থার শুরুতেই এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ২৪-২৮ সপ্তাহে ওজিটিটি (OGTT) পরীক্ষার মাধ্যমে শর্করা পরিমাপ করা।
মনে রাখা ভালো: ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না করলে গর্ভস্থ শিশুর অতিরিক্ত ওজন, অকাল প্রসব বা ভবিষ্যতে মা ও শিশু উভয়েরই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
সঠিক ব্যবস্থাপনায় একজন জিডিএম আক্রান্ত মা-ও সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারেন।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য













