স্বাস্থ্য ডেস্ক (নাবিলা কবির): কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধ।
কিডনি আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়
এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু অজান্তেই এই অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ নিচে আলোচনা করা হলো:
কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ শুরুতে বোঝা মুশকিল। প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণগুলো খুব একটা প্রকাশ পায় না।
তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি: স্বাস্থ মন্ত্রণালয়
প্রস্রাবের পরিবর্তন:
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিডনি সমস্যার অন্যতম লক্ষণ।
এছাড়া প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া (যা প্রোটিন যাওয়ার লক্ষণ) বা প্রস্রাবের রঙ গাঢ় বা রক্তযুক্ত হওয়া।
শরীরে পানি আসা বা ফুলে যাওয়া:
কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের করতে না পারলে তা হাত, পা, গোড়ালি, চোখের নিচে বা মুখমণ্ডলে জমে যায় এবং ওই অংশগুলো ফুলে ওঠে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা:
কিডনি বিকল হতে থাকলে রক্তে লোহিত কণিকা তৈরির হরমোন (EPO) কমে যায়।
ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।
কিডনি আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়
এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
কিন্তু অজান্তেই এই অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিয়মিত স্ক্রিনিং:
বিশেষ করে যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, কিংবা যারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের বছরে অন্তত একবার প্রস্রাবের মাইক্রো-অ্যালবুমিন এবং রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন (S,Creatinine) পরীক্ষা করা উচিত।
কিডনি রোগকে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তাই সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।রক্তে বর্জ্য পদার্থ
এবং খনিজ উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বকে তীব্র চুলকানি, র্যাশ বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
ত্বকে চুলকানি ও শুষ্কতা:
রক্তে বর্জ্য পদার্থ এবং খনিজ উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বকে তীব্র চুলকানি, র্যাশ বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
খাবারে অরুচি ও বমি বমি ভাব:
রক্তে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য জমা হওয়ার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, খাবারের স্বাদ নষ্ট হয় এবং বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
পিঠে বা পাশে ব্যথা:
কোমরের একটু ওপরে, পিঠের দুই পাশে বা যেকোনো এক পাশে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়:

Press Point BD
জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সচেতনতার মাধ্যমে কিডনি রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব:
পর্যাপ্ত পানি পান:
প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী (সাধারণত ২ থেকে আড়াই লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
তবে অতিরিক্ত পানি পানও কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:
কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন। তাই নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
যত্রতত্র ব্যথানাশক ওষুধ পরিহার:
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers) এবং অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া কিডনির জন্য অত্যন্ত মারাত্মক।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:
খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস ও ফাস্টফুড পরিহার করে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে।
ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন:
ধূমপানের ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাই ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম:
অলস জীবনযাপন ত্যাগ করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম করতে হবে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
কিডনি রোগের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন।
তাই নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
এবং রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন (S,Creatinine) পরীক্ষা করা উচিত।কিডনি রোগকে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়।
তাই সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য













