বিশেষ প্রতিনিধি (কিরণ বাঁসফোর): হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষা: অধিকার নাকি এখনো এক অধরা স্বপ্ন!
আসুন শোনা যাক এক হরিজনের কথা....
জন্মগত পরিচয়ের কারণে একটি আস্ত জনগোষ্ঠী যখন যুগ যুগ ধরে শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকে, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।
আমি যখন নিজ সম্প্রদায়ের শিশুদের দিকে তাকাই, দেখি তাদের চোখে পড়াশোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কিন্তু তাদের হাতের তালু সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
হরিজন কলোনিগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বলতে যা বোঝায়, তা আজও অসম্পূর্ণ।
একজন হরিজন শিক্ষার্থী যখন স্কুলের আঙিনায় পা রাখে, সে কেবল পাঠ্যবইয়ের সাথে যুদ্ধ করে না, বরং
তাকে লড়াই করতে হয় সহপাঠী ও সমাজের চোখে লেগে থাকা সেই পুরনো ‘অস্পৃশ্যতার’ চশমার বিরুদ্ধে।
অনেক সময় শিক্ষকরাও অবচেতনে যে দূরত্ব তৈরি করেন, তা একজন কোমলমতি শিশুর মনে হীনম্মন্যতার স্থায়ী দাগ ফেলে দেয়।
ফলস্বরূপ, মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই ঝরে পড়ে আমাদের প্রজন্মের বড় একটি অংশ।
এই সম্প্রদায়ের একটি বড় সংকট হলো পরিচয় লুকানো। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেতে নিজের জাত পরিচয় গোপন করতে বাধ্য হয়।
যে জাতি তার পরিচয় নিয়ে গর্ব করে বেঁচে থাকার কথা, সেখানে পরিচয় গোপন করাই যদি সাফল্যের শর্ত হয়
তবে সেই রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
ফিফা বিশ্বকাপের লাইভ স্ট্রিমিং ⚡ রিয়েল-টাইম আপডেট
আমাদের ভাষার বৈচিত্র্যও অনেক সময় শিক্ষার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তেলুগু, ভোজপুরি
কিংবা হিন্দির আবহে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য বাংলা মাধ্যমে মানিয়ে নেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক কঠিন।
কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আজও সেভাবে ‘ব্রিজ কোর্স’ বা বিশেষ ভাষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই।
বাংলাদেশ হরিজন ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা লড়াই করছি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য।
কিন্তু কেবল একটি ছাত্র সংগঠনের একার প্রচেষ্টায় এই বিশাল বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

আমার দাবি পরিষ্কার:
১. বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ও কোটা: উচ্চশিক্ষায় আমাদের সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোটা এবং বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
২. মানসিকতার পরিবর্তন: স্কুলগুলোতে মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পাঠ বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে কোনো শিশুই জাত পরিচয়ের কারণে বুলিংয়ের শিকার না হয়।
৩. কারিগরি শিক্ষার প্রসার: যারা পরিস্থিতির চাপে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে।
আমাদের বাবারা শহর পরিষ্কার রেখে এই সমাজকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সন্তানেরা যেন কলম হাতে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিতে পারে।
আমরা আর পেছনে পড়ে থাকতে চাই না।
শিক্ষার অধিকার কেবল সংবিধানের পাতায় নয়, আমাদের কলোনির প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে হবে।
এখন সময় এসেছে এই বৈষম্য ভাঙার। আমরা ভিক্ষা চাইছি না, আমরা চাই আমাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও শিক্ষার সমান সুযোগ।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/













